X
শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২
১৭ আষাঢ় ১৪২৯

খুলনায় বেড়েছে শিশুরোগ ও ডায়রিয়া

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২২, ১৯:৫৮

খুলনার বিভিন্ন এলাকায় ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দি, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ সব বয়সের মানুষ। শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিস, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে খুলনা শিশু হাসপাতালসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

খুলনা শিশু হাসপাতালের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা. এস আরফিন টুটুল বলেন, ‘প্রতি বছরই আবহাওয়া বা মৌসুম পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারলে কোনও সমস্যা হয় না। এ সময় আক্রান্ত শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক ওষুধ প্রয়োগসহ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে চলতে হবে।’

মহানগরীর বাস্তহারার বাসিন্দা নুরজাহান জানান, সন্তানকে শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে নিয়ে এসেছেন। অতিরিক্ত গরমে শিশুটির কয়েকদিন ধরে জ্বর।

শিববাড়ী, সোনাডাঙ্গা, নিরালা, বৈকালি, বয়রা, নতুনরাস্তা, খালিশপুর, দৌলতপুর, রেলগেট, মানিকতলা, ফুলবাড়ী শিরোমনি, আটরা, ফুলতলা এলাকার চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বার ও ফার্মেসিগুলোতে শিশুরোগ প্রতিষেধক অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন, মন্টিলুকাস্ট, কিটোটোফেনসহ লিভোসালভিউটামল ওষুধের চাহিদা বৃদ্ধিসহ নেবুলাইজেশন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসকসহ ব্যবসায়ীরা।

ওষুধ ফার্মেসি রিমি মেডিক্যালের মালিক হাফিজুর রহমান জানান, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জ্বর, সর্দি-কাশিতে ভুগছে অধিকাংশ শিশুসহ সব বয়সের মানুষ। হঠাৎ গরমের তীব্রতার কারণে এসব রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পিরোজপুর ইকড়ি গ্রামের তানভীর গত ১২ দিন ধরে শিশু হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থান করছে। সঙ্গে রয়েছেন তার মা তানিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘এখানে আসার কয়েকদিন আগ থেকে তানভীরের জ্বর হয়। ওষুধ খেয়েও জ্বর ভালো হয়নি। এখানে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারলাম নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। প্রথম দিকে রোগীর চাপে এখানে থাকার কোনও ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে চাপ কম রয়েছে।’

শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. প্রদীপ দেব নাথ বলেন, ‘২৭২ শয্যা নিয়ে চলছে খুলনা শিশু হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম। গত কয়েকদিন ধরে এ হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন জ্বর, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত পাঁচশর বেশি রোগীর সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ১৪-১৫ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন এখানে। যদিও অন্যান্য বিভাগের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম তবে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত এ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে।’

এদিকে খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে রোগীদের সামলাতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রোগীদের চাপে অনেকে এ হাসপাতালের বারন্দায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি রোগী রায়েরমহল এলাকার বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘২৬ মার্চ দুপুরে রাস্তার পাশের একটি দোকান থেকে শরবত কিনে খাওয়ার পর থেকেই পেটব্যথা এবং পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পাতলা পায়খানা কোনোভাবে না কমায় রাতে হাসপাতালে আসি। আমাকে ভর্তি করে নেওয়া হয়। চারটি স্যালাইন দেওয়ার পর এখন একটু সুস্থ হয়েছি। তবে শরীর এখনও খুব দুর্বল।’

খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ গরমে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রায় তিনশ রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালটিতে। এ ছাড়া অনেকে বাড়িতে একই ধরনের চিকিৎসা নিচ্ছেন আমাদের পরামর্শে।’

 

 

/আরকে/এমএএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
হাজী দানেশে ৪ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন
হাজী দানেশে ৪ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন
বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো যুবকের 
বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো যুবকের 
তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার 
তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার 
ছেলে-বউয়ের নির্যাতনে বাড়ি ছাড়া মর্জিনা বেওয়া 
ছেলে-বউয়ের নির্যাতনে বাড়ি ছাড়া মর্জিনা বেওয়া 
এ বিভাগের সর্বশেষ
প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু
প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু
দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নরসুন্দর নিহত
দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নরসুন্দর নিহত
দুর্বৃত্তের হামলায় আহত কলেজছাত্রের মৃত্যু
দুর্বৃত্তের হামলায় আহত কলেজছাত্রের মৃত্যু
সড়কে গাছ ফেলে ঘণ্টাব্যাপী ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকা লুট
সড়কে গাছ ফেলে ঘণ্টাব্যাপী ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকা লুট
‘আবরার বেঁচে থাকলে সবচেয়ে খুশি হতো’
‘আবরার বেঁচে থাকলে সবচেয়ে খুশি হতো’