ঈদকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের ছয় উপজেলার বিভিন্ন বিপণি বিতানে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সরগরম প্রতিটি জামা-কাপড়ের দোকান। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের ঈদের চেয়ে এ বছর বেশি দাম রাখছেন দোকানিরা।
ছয় উপজেলার কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে উপজেলার বিভিন্ন ফুটপাত ও বিপণি বিতানগুলোতে ততই ভিড় বাড়ছে। ক্রেতারা পছন্দমতো পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছেন। আবার টেইলার্সের দোকানেও প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে। দুদিন আগেই থেকে কাপড় বানানোর অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন টেইলার্স মালিকরা।
শহরের কাঁচারি এলাকায় মসজিদ মার্কেট ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মৌ ইসলাম বলেন, ‘গত দুই বছর ঈদ উপলক্ষে তেমন একটা কেনাকাটা করতে পারিনি। এবার শপিং করতে এসেছি। আজকেই নিজের ও আত্মীয়স্বজনের জন্য শপিং শেষ করতে চাই। সকালে এসেছি বাচ্চাদের কেনাকাটা করেছি এখন বাকি আমার। তবে বাচ্চাদের পোশাকের দাম কিছুটা বাড়তি।’
জিএইচ সিটি সেন্টারে কেনাকাটা করতে আসা মুন্নি জাহান বলেন, ‘বাচ্চা ও স্বামীর জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। এখন পর্যন্ত কিছুই কিনতে পারিনি ৪-৫ টি দোকান ঘুরে দেখেছি পছন্দ হচ্ছে না। এখন যাব মোল্লা প্লাজায় গিয়ে দেখি পছন্দ হয় কিনা। ঈদ বলে কথা কেনাকাটা তো করতেই হবে।’
জিএইচ সিটি সেন্টারের আনিকা ফ্যাশন হাউজের স্বত্বাধিকার নূরে আলম বলেন, ‘ক্রেতারা নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনছেন। এ দোকানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন ডিজাইনের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। ডিজাইন ও রকম ভেদে পোশাকগুলো ৬০০ থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে ঈদের শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা অনেক ভালো হবে।’
রোজার শুরুতে বেচাকেনা মন্দা থাকলেও রমজানের শেষ পর্যায়ে এসে বেচাকেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা। শহরের কাঁচারিঘাট, বড়বাজার, সুপার মার্কেট, সিপাহিপাড়া, হাতিমারা, মিরকাদিম ও রিকাবিবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানে চলছে বিক্রির ধুম। ক্রেতারা জামাকাপড়, জুতা, অলঙ্কারসহ বিভিন্ন জিনিস কেনার জন্য ভিড় করছেন দোকানে-দোকানে। এ ছাড়া ফুটপাতের দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
সিপাহিপাড়া কেনাকাটা করতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রোজার শুরুর দিকে কেনাকাটা করতে পারিনি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আজ এসেছি ঈদের নতুন জামা কাপড় কিনতে। তবে এবার জামা কাপড়ের দাম অন্য বছরের তুলনায় একটু বেশি।
সুপার মার্কেটের ঘুড্ডি ফ্যাশন হাউজের স্বত্বাধিকারী মো. জজ মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। ইফতারের সময়ও বেশ কিছু দোকানে ক্রেতাদের দেখা গেছে কেনাকাটা করতে। আমাদের প্রতিদিন ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে। শেষের দিকে আরও বেশি বিক্রি হবে।’
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আল-মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদে নিরাপদে কেনাকাটা করার জন্য জেলা ও উপজেলার বিপণি বিতানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা পুলিশ ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। একইভাবে অভ্যন্তরীণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’








