ময়মনসিংহে ত্রিশালের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার আগ মুহূর্তে মায়ের পেট ফেটে জন্ম নেওয়া সন্তান ফাতেমার জন্মদিন আনন্দঘন পরিবেশে কেক কেটে উদযাপন করা হয়েছে। রবিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টায় ঢাকার আজিমপুরের ছোটমণি নিবাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটা হয়। এ সময় ছোটমণি নিবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কেমন আছে সড়কে মায়ের পেট ফেটে জন্ম নেওয়া সেই ফাতেমা?
ফাতেমার দাদা ত্রিশালের রাইমনি গ্রামের মুস্তাফিজুর রহমান বাবলু বলেন, ‘আজ ১৬ জুলাই একদিকে কষ্ট, অন্যদিকে আনন্দ। এই দিনে ছেলে জাহাঙ্গীর, তার স্ত্রী রত্না এবং তাদের মেয়ে সানজিদা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আবার এই দিনেই মায়ের পেট ফেটে সড়কে জন্ম নেয় ফাতেমা। সমাজসেবা অধিদফতরের ঢাকার আজিমপুরের ছোটমণি নিবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফাতেমার জন্মদিন পালন করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিহত তিন জনের জন্য দুপুরে গ্রামের বাড়িতে কোরআন খতমসহ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। নিহতদের ও ফাতেমার জন্য দোয়া করা হবে। গ্রামের বাড়িতে দোয়ার আয়োজন করার কারণে নাতনির কাছে আমরা যেতে পারিনি। তবে আগামী শুক্রবার তাকে সবাই দেখতে যাবো।’
‘মাসে দুই-তিন বার নাতনিকে দেখতে ছোটমণি নিবাসে যাই। প্রতিবার যাওয়ার সময় ফাতেমার দাদি, বোন জান্নাতুল ও ভাই এবাদতকে সঙ্গে নিয়ে যাই। ফাতেমা সেখানে বেড়ে উঠছে সুন্দরভাবে।’
সর্বশেষ গত ৭ জুলাই সবাই মিলে ফাতেমাকে দেখতে গিয়েছিলাম উল্লেখ করে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ফাতেমা সব সময় হাসি-খুশি থাকে। তবে বাবা-মায়ের কথা এখনও বুঝতে পারে না। আমাদের আপনজন মনে করে। আমরা আদর-যত্ন করে রেখে আসি। তবে তাকে এভাবে রেখে আসতে কষ্ট হয় আমাদের।’
আরও পড়ুন: অবাক চোখে চারপাশ দেখে ফাতেমা
ফাতেমার বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস ও ভাই এবাদতকে গ্রামের বাড়িতে লালনপালন করছেন দাদা মোস্তাফিজুর রহমান এবং দাদি সুফিয়া খাতুন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ জুলাই ত্রিশালের রাইমনি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪২), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না বেগম (৩২) এবং তাদের ছয় বছরের সন্তান সানজিদাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জনই নিহত হন। রত্নার মৃত্যুর আগ মুহূর্তে সড়কে জন্ম হয় শিশু ফাতেমার। তাকে লালন-পালন করার জন্য সমাজসেবা অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আজিমপুরের ছোটমণি নিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ফাতেমা বেড়ে উঠছে।









