X
শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪
২৮ আষাঢ় ১৪৩১
ওসির অডিও ভাইরাল

‘নির্বাচন করতে মন্ত্রী আমাকে গাইবান্ধা থেকে এখানে নিয়ে এসেছেন’

রাজশাহী প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২৩:৫৫আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২৩:৫৫

পাঁচ লাখ টাকা দিলে মাদকের ব্যবসা করতে দেবেন রাজশাহীর চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম। এ ছাড়াও আরও দুই লাখ টাকা দিলে জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসিকেও বদলি করিয়ে দেবেন বলে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। কথাগুলো বলেছেন চারঘাটের এক মাদক কারবারে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রীকে। তার সঙ্গে কথোপথনের ওই অডিও ফাঁস হয়ে যায়। এটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই সমালোচনার ঝড় বইছে।

এ ঘটনার পর চারঘাট থানার ওসি মাহবুবুল আলমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করেছে জেলা পুলিশ। সঙ্গে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আশরাফকে। তদন্ত কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম বলেন, ‘তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ভুক্তভোগীসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুর রহমান বলেন, ‘গত শনিবার এক নারী চারঘাট থানার ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। সঙ্গে পেনড্রাইভে একটি অডিও ক্লিপও দিয়েছেন তিনি। ওসিকে প্রত্যাহার এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রমাণ পেলে ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফাঁস হওয়া ওই অডিও রেকর্ডে ওসি মাহবুবুল আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘নির্বাচন করতে মন্ত্রী আমাকে গাইবান্ধা থেকে এখানে নিয়ে এসেছেন। আমি তার কথা ছাড়া কারও কথা শুনি না। দুই লাখ টাকা দেন, কালকেই ডিবির ওসিকে বদলি করে দেবো।’

মাদক কারবারির স্ত্রী সাহারা বেগমকে ওসি বলেন, ‘আপনার স্বামী আমার অনেক ক্ষতি করে গেছে (ওসির বিরুদ্ধে এসপি অফিসে অভিযোগ করেছিলেন)। এবার আপনার পরিবারের কাউকে ধরলে ১০ লাখ টাকার কমে ছাড়াতে পারবো না।’

চারঘাট এলাকায় গিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে মামলা দেওয়ার কারণে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসির সমালোচনা করেন তিনি। ওসি বলেন, ‘এখনও তোমার গায়ে আঁচড় দিইনি। বহুত ফাঁকি দিয়েছো। কাল ৫ লাখ টাকা নিয়ে আসবে। এখন সেরকম সময় নয় যে কেউ পয়সা খায় না। সবাই পয়সা খাচ্ছে। এমন কেউ বাদ নেই যে পয়সা খাচ্ছে না। পুরো জেলা পয়সা খাচ্ছে। এখানে আমার থানা চালাতে মাসিক অনেক টাকা লাগছে। আমি স্যারকে কথা দিয়ে এসেছি। স্যারকে বলেছি, এখানে মাদক ছাড়া কিছু নেই।’

ওসি আরও বলেন, ‘মুক্তা (চারঘাটের মাদক সম্রাট নামে পরিচিত) অ্যাকশন নিতে পারবে না, শুভ (ছাত্রলীগ নেতা ও মাদক কারবারি) অ্যাকশন নিতে পারবে না। তোমরা ৫ লাখ টাকা দিতে পারবা? ধরে ওদের চালান দিয়ে দেবো। থাকি, না থাকি ওদের সাইজ করবো। তোমরা বাইরে থেকে ব্যবসা (মাদক ব্যবসা) করবে।’

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আতিকুর রেজা সরকার আতিকের সমালোচনা করে ওসিকে বলতে শোনা যায়, ‘নির্বাচনের আগে শুভকে ধরতে পারবো না। কথা সব ভেঙে বলবো না। কথা সব হয়ে গেলো; যদি আতিকের বদলি চাও ২ লাখ টাকা দাও। কালকেই আতিকের বদলি হয়ে যাবে।’

চারঘাট থানার ওসি মাহবুবুল আরও বলেন, ‘৫ লাখ আর ২ লাখ, ৭ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করো। আতিক বাদ, ওই দুই জনকে (মুক্তা ও শুভ) ট্যাকেল দেওয়ার দায়িত্ব আমার। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে মন্ত্রীকে বলে ওই দুই জনকে ধরে অ্যারেস্ট করে চালান করে দেবো। আমার সব ওপরের লাইন। যে টাকা দিবা, এই টাকাই ওপরে কাজ করবে।’

অডিওতে গৃহবধূ সাহারা বেগমের ‘সুন্দর চেহারা’ নিয়েও মন্তব্য করতে শোনা যায় ওসিকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাহারা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ও র‌্যাবের সোর্স হিসেবে কাজ করেন। চারঘাট এলাকায় তার সোর্সের মাধ্যমে অনেক মাদক র‌্যাব-পুলিশ জব্দ করেছে। গত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তিনি সদস্য পদে নির্বাচন করেন। এরপর থেকে এলাকার মুক্তা, শুভ ও সাব্বিরের সঙ্গে আমার স্বামীর বিরোধ বাঁধে। এর জের ধরে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করায় তারা।’

অডিওটা এডিটেড দাবি করেছেন ওসি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, ‘তারা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব। মাদকের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ওই নারী দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন অন্যদের সঙ্গে। তিনি থানায় এসেছিলেন মামলা করতে। কিন্তু মামলাযোগ্য না তাই মামলা নেওয়া হয়নি। এটার সুযোগ নিয়েছেন ওই নারী। পরিকল্পনা মতো তিনি আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার থানায় কোনও মাদক ব্যবসায়ীকে স্বাধীনভাবে চলতে দেবো না। এই থানায়ও কেউ মাদক ব্যবসা করতে পারবে না। ওই নারীর বিরুদ্ধে ছয়টি এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে ১২টি মামলা আছে। মাদক মামলায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃতুদণ্ডও হতে পারে। তাই নিজেরা বাঁচতে পরিকল্পনা অনুযায়ী এ কাজ করেছেন।’

প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে বক্তব্যের বিষয়ে মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমি মন্ত্রী মহোদয়কে নিয়ে কোনও মন্তব্য করিনি। আমাদের বদলি-পদোন্নতি হেড কোয়ার্টার থেকে হয়। আমার কণ্ঠ হুবহু নকল করে এগুলো করেছে।’

এ বিষয়ে জানতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কথা হয়েছে তার। প্রতিমন্ত্রী তাকে বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকার নিয়োগে আমি সুপারিশ করি না। যতদূর মনে পড়ে তিনি যোগদান করেছেন অনেক দিন আগেই এবং অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য কয়েক দফা কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত ছিলেন বলে শুনেছি।’

 

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপরে, ফেরি চলছে ধীরে
পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপরে, ফেরি চলছে ধীরে
কেয়ার হোম নিয়ে ব্রিটেনের আদালতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য
কেয়ার হোম নিয়ে ব্রিটেনের আদালতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য
উইম্বলডনে আবার জোকোভিচ-আলকারাজ ফাইনাল
উইম্বলডনে আবার জোকোভিচ-আলকারাজ ফাইনাল
১২ বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে দিয়ে জরিমানা গুনলেন বাবা
১২ বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে দিয়ে জরিমানা গুনলেন বাবা
সর্বাধিক পঠিত
দুই টাইলসের মাঝে দাগ পড়লে কী করবেন
দুই টাইলসের মাঝে দাগ পড়লে কী করবেন
রাশিয়াকে সহযোগিতা নিয়ে ন্যাটোর অভিযোগে চীনের পাল্টা আক্রমণ
রাশিয়াকে সহযোগিতা নিয়ে ন্যাটোর অভিযোগে চীনের পাল্টা আক্রমণ
ভিটামিন বি-১২ কমে গেলে যেসব রোগের ঝুঁকি বাড়ে
ভিটামিন বি-১২ কমে গেলে যেসব রোগের ঝুঁকি বাড়ে
পুলিশ কর্মকর্তা কামরুলের স্ত্রীর নামে আছে পাঁচ জাহাজ
পুলিশ কর্মকর্তা কামরুলের স্ত্রীর নামে আছে পাঁচ জাহাজ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে ইতিবাচক মিয়ানমার
বিমসটেক রিট্রিটরোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে ইতিবাচক মিয়ানমার