X
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪
১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

সুলতানগঞ্জ-ময়া নৌপথ উদ্বোধন, ভারতে গেলো পণ্যবাহী নৌযান

রাজশাহী প্রতিনিধি
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪:৪৪আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫:৪৩

বাংলাদেশ ও ভারতের নৌ প্রটোকলের আওতায় চালু হলো বহুল কাঙ্ক্ষিত রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর এবং ভারতের মুর্শিদাবাদের ময়া নৌবন্দর পর্যন্ত পণ্যবাহী নৌযান চলাচল। পদ্মা ও মহানন্দার মোহনায় সুলতানগঞ্জে সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

উদ্বোধনের পর এই নৌপথে সুলতানগঞ্জ থেকে ময়ার উদ্দেশে পণ্যবাহী একটি নৌযান ছেড়ে গেছে।

রফতানিকারক বশির আহমেদ বলেন, ‘প্রথম দিন পরীক্ষামূলকভাবে ৩১০ ব্যাগে ১১ হাজার ৭০০ কেজি গার্মেন্টস ঝুট কার্টন পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে এই পথ দিয়ে এই মালামাল পাঠানো হলো। এর আগে বুড়িমারী ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পাঠাতাম। এবার উদ্বোধন উপলক্ষে এই পথ দিয়ে পাঠালাম। সময় কম লাগবে। মাত্র দেড় ঘণ্টায় সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদের ময়া নৌবন্দরে পৌঁছে যাবে। আশা করছি, এই নৌপথ আমাদের জন্য সহজ হবে। সময় ও খরচ কম পড়বে।’

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত সুলতানগঞ্জ-ময়া ও গোদাগাড়ী-ভারতের লালগোলা নৌঘাটের মধ্যে নৌপথে বাণিজ্য চালু ছিল। পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনে রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ ঘাটটি নদীবন্দরের মর্যাদা পেলো।

সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে সময় ও খরচ কমে যাবে। এতে উপকৃত হবেন বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন, বছরে এ নৌপথে দুই দেশের মধ্যে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হবে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ্য, রাজশাহী থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান ও ময়া নৌবন্দর পর্যন্ত নৌপথে নৌযান চালু এবং রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক নৌবন্দর প্রতিষ্ঠায় গত পাঁচ বছর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এটি তার একটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু এবং সুলতানগঞ্জ-ময়া নৌপথে নৌযান চলাচল শুরুর মাধ্যমে মেয়র লিটনের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হলো। পূরণ হলো রাজশাহীবাসীর কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন।

এদিকে, সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর ও সুলতানগঞ্জ-ময়া নৌপথে নৌযান চলাচলের উদ্বোধন উপলক্ষে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করে বিআইডব্লিউটিএ। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)  চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্মসচিব সেলিম ফকির।

অনুষ্ঠানে মেয়র লিটন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান থেকে নৌপথটি গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ, রাজশাহী ও পাকশী হয়ে আরিচাঘাট পর্যন্ত গেছে। দীর্ঘদিন এটির ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ ছিল না। আমি গত পাঁচ বছর বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত, লেখালেখি ও ডিও লেটার দিয়েছি। ফলে এটি গতিশীল হয়েছে। অবশেষে প্রথম পর্যায়ে সুলতানগঞ্জ-ময়া নৌপথে নৌযান চলাচল শুরু হলো। পরবর্তী সময়ে এটি রাজশাহী হয়ে আরিচা পর্যন্ত চালু হবে। রাজশাহী নগরীতে নৌবন্দর স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে রাজশাহীর অর্থনীতি গতিশীল হবে, অনেক কর্মসংস্থান হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আজ অত্যন্ত আনন্দিত। পিছিয়ে পড়া রাজশাহীতে নৌবন্দর চালু হলো। এটির মাধ্যমে রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। আমরা অনেক দিক দিয়ে উপকৃত হবো।’

এর আগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশের রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ধুলিয়ান নৌপথে বাণিজ্য চালুর। রাজশাহী থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার একটি নৌপথের অনুমোদন থাকলেও পদ্মার নাব্য সংকটের কারণে তা কার্যকর করা হয়নি। এ জন্য নৌপথটি সংক্ষিপ্ত করে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদের ময়া নৌবন্দর পর্যন্ত আড়াআড়িভাবে ২০ কিলোমিটার পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া হবে। শুরুতে এই নৌপথে ভারত থেকে পাথর বালি ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী আনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুলতানগঞ্জ থেকে ময়া নৌঘাটের নদীপথে দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। সুলতানগঞ্জ নৌঘাটটি রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে পদ্মার শাখা নদী মহানন্দার মোহনার কাছাকাছি। সারাবছর সুলতানগঞ্জের এই পয়েন্টে গভীর পানি থাকে।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের ময়া নৌঘাটটি মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমা শহরের কাছে ভারতীয় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সুলতানগঞ্জ-ময়া পথে নৌবাণিজ্য শুরু হওয়ায় পরিবহন খরচ অনেকাংশে কমে যাবে। এতে রাজশাহীর অর্থনীতি গতিশীল এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

/এমএএ/
সম্পর্কিত
উন্নত বাংলাদেশ গঠনে লজিস্টিক খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য
পাটপণ্যকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হিসেবে তৈরি করবো: নানক
শবে বরাত উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ
সর্বশেষ খবর
অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামিন পেলেন ড. ইউনূস
অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামিন পেলেন ড. ইউনূস
হলো না ঘুরতে যাওয়া, মা-বাবার সঙ্গে পাশাপাশি কবরে শায়িত ছোট্ট জামিলা
হলো না ঘুরতে যাওয়া, মা-বাবার সঙ্গে পাশাপাশি কবরে শায়িত ছোট্ট জামিলা
আদালতে ড. ইউনূস
আদালতে ড. ইউনূস
গাজায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে ক্ষুধার্ত শিশুরা
গাজায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে ক্ষুধার্ত শিশুরা
সর্বাধিক পঠিত
স্কুলে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হতে পারেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হতে পারেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা: শিক্ষামন্ত্রী
ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ‘এএমপিএম’, পলাতক কর্মকর্তারা
বেইলি রোড ট্র্যাজেডিব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ‘এএমপিএম’, পলাতক কর্মকর্তারা
বিদেশের সম্পদ দেশের টাকায় করিনি: সাবেক ভূমিমন্ত্রী
বিদেশের সম্পদ দেশের টাকায় করিনি: সাবেক ভূমিমন্ত্রী
বেইলি রোডের ট্র্যাজেডি নিয়ে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের বিবৃতি
বেইলি রোডের ট্র্যাজেডি নিয়ে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের বিবৃতি
পূর্ব ইউক্রেনের একটি শহর ঘেরাও করেছে রুশ সেনাবাহিনী
পূর্ব ইউক্রেনের একটি শহর ঘেরাও করেছে রুশ সেনাবাহিনী