এক জালে ধরা পড়লো ১০২ মণ ইলিশ ও অন্যান্য মাছ

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৯:০৩আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২১:০২

১০২ মণ মাছ নিয়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এসেছে একটি মাছ ধরা ট্রলার। যার অধিকাংশই ইলিশ। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে এসব মাছ একটি আড়তে নিয়ে নিলামে বিক্রি হয় ১৯ লাখ ২০ হাজার ৩শ টাকায়। ট্রলারটি বিপুল পরিমাণ মাছ শিকার করে ঘাটে ফিরে আসার খবর শুনে জনতা তা দেখতে ভিড় করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এফবি নাহিদা আক্তার নামের মাছ ধরা ট্রলারটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর আলীপুর ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। তিন দিন বিভিন্ন এলাকায় জাল ফেলে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাননি জেলেরা। বৃহস্পতিবার জাল ফেলে ১০২ মণ মাছ পেয়েছেন। মাছগুলো আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে এসে তিনটি আকারে আলাদা করা হয়। তবে মাছ ছোট হওয়ায় দাম কম পেয়েছেন জেলেরা। ৬০০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের মাছ প্রতিমণ ২৫ হাজার টাকা, ৪০০ গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতিমণ মাছ ২০ হাজার টাকা এবং ছোট আকারের মাছ প্রতি মণ মাছ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অন্য বিভিন্ন প্রজাতির মাছ তিন লাখ টাকার বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৯ লাখ ২০ হাজার তিনশ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। মাছগুলো মূলত বৃহস্পতিবার কুয়াকাটা থেকে পূর্ব-দক্ষিণ দিকে ৯৫ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে ধরা পড়ে।

ট্রলারের মাঝি আব্দুর রহিম বেপারী বলেন, ‘পাঁচ দিন আগে আমরা ২০ জন জেলে মাছ ধরতে সাগরে যাই। প্রথম দিকে তেমন একটা মাছ পাচ্ছিলাম না, অনেকটা হতাশা নিয়েই সাগরে জাল মারছিলাম। এইভাবে মারতে মারতে আরও একটু গভীরে গিয়ে জাল ফেলার পর ইলিশের একটি ঝাঁক ধরা পড়ে। মাছগুলো ট্রলার বোঝাই করে আমরা ঘাটের দিকে ফিরে আসি। মাছের সাইজ বড় হলে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি হতো।’

এফবি নাহিদা আক্তার ট্রলারের মালিক আব্দুল মান্নান বেপারি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে সাগরে খুব কম মাছ ধরা পড়ছে। আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছিল। এই মাছ বিক্রি করে আগের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবো।’

আলীপুরের মৎস্য ব্যবসায়ী কামাল বেপারী বলেন, ‘এই ট্রলারটি চলতি মৌসুমে তেমন একটা মাছ পায়নি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা দশ দিন ঘাটে বসে ছিল। আবহাওয়া মাছ ধরার অনুকূলে আসলে ট্রলারটি সমুদ্রে যায় গত সোমবার। আলহামদুলিল্লাহ ১০২ মণ মাছ নিয়ে ঘাট এসেছে। আশা করি, সমুদ্রে থাকা সব জেলেই ভালো মাছ পাবেন।’

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা বন্দরে অবস্থান‌ করছিলেন। বর্তমানে আবহাওয়া মাছ ধরার অনুকূলে আছে। আশা করছি, প্রতিটি ট্রলারে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মাছ ধরা পড়বে।’

/এমএএ/
সম্পর্কিত
ইলিশ গেছে বেড়াতে, ফিরবে কবে?
‘এত খারাপ সময় আর আসেনি, সংসার আর চলছে না’
জেলেদের জালে কত প্রজাতির মাছ, কয়টি আপনি চেনেন
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম