রাজশাহীতে নিজ বাসা থেকে অপহরণ হওয়া নারী চিকিৎসকের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়াও অপহরণে ব্যবহৃত গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই গাড়িতে অপহরণকারীরা ওই চিকিৎসকের বাবাকেও তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে তারা সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা এলাকায় রাস্তায় তাকে ফেলে চলে যায়।
জানা গেছে, সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে অপহরণের অভিযোগে চিকিৎসকের বাবা বাদী হয়ে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা করেন। অপহরণকারী ব্যক্তিরা ওই চিকিৎসকের মাকে (৫১) পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপহরণের শিকার ওই চিকিৎসক রাজশাহীর একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে সম্প্রতি ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) শেষ করেছেন। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তাদের বাসা রাজশাহী নগরীতে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাবিনা ইয়াসমিন মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জানান, পুলিশের দিক থেকে ওই চিকিৎসককে উদ্ধারের সব ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় অপহরণের শিকার নারী চিকিৎসকের বাবা বাদী হয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ অপহরণের কাজে ব্যবহৃত গাড়িটি নম্বরসহ শনাক্ত করতে পেরেছে। এই নম্বর বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এখন কড়া নজরদারি চলছে।
রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, ‘বাদী অপহরণকারী ব্যক্তিদের চিনতে পেরেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অজ্ঞাত তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি এজাহারভুক্ত আসামিদের বিষয়ে কিছু জানাতে চাননি।’
অপহরণের শিকার চিকিৎসকের মামা জানান, আজ সকাল ৭টার দিকে তার দুলাভাইকে আবার থানায় ডেকে নেওয়া হয়। তিনি কথা বলতে পারছেন, কিন্তু ভীষণ অসুস্থ। তাকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আর অচেতন করার জন্য ইনজেকশন দেওয়ার কারণে তিনি শারীরিকভাবে খুব দুর্বল রয়েছেন।
এর আগে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) অপহৃত চিকিৎসকের মা জানিয়েছিলেন, সোমবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য তার স্বামী মসজিদে যান। সে সময় তিনি বাইরের ফটকে তালা লাগিয়ে চাবি সঙ্গে নিয়ে যান। একটু পরই তালা খোলার শব্দ পেয়ে তিনি এগিয়ে যান, এত তাড়াতাড়ি নামাজ না পড়ে তার স্বামী ফিরে আসছেন কিনা দেখতে। দেখতে গিয়ে বুঝতে পারেন, অপহরণকারী ব্যক্তিরা তার স্বামীকে জিম্মি করে চাবি নিয়ে এসেছে।
এ সময় অপহরণকারী ব্যক্তিরা তাকে ধরে দেয়ালের সঙ্গে মাথা ঠুকে দেয় এবং তালা দিয়ে আঘাত করে। এরপর তারা তার গলা চেপে ধরে। তারা যখন তাকে ছেড়ে দেয়, তখন তিনি দৌড় দিয়ে নিচে নেমে রাস্তার ওপর পড়ে যান। ততক্ষণে অপহরণকারী ব্যক্তিরা তার মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে চলে যায়।









