বগুড়া শহরে বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী এক দম্পতি এবং কাহালুতে রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাকের চাপায় এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। রবিবার দুপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনোয়ারুজ্জামান এসব তথ্য দিয়েছেন।
নিহতরা হলেন– বগুড়া শহরের উত্তর কাটনারপাড়া করোনেশন স্কুল লেনের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম সজল (৫০) ও তার স্ত্রী বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় হোসনে আরা (৪৫); বগুড়ার কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের শিলকওর পশ্চিমপাড়ার আবদুল হাকিমের স্ত্রী বুলবুলি আকতার (৩২)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় হোসনে আরার রবিবার দ্বিতীয় শিফটে বেলা ২টা থেকে ডিউটি ছিল। দুপুরে ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম সজল তার মোটরসাইকেলে স্ত্রী হোসনে আরাকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। বেলা পৌনে ২টার দিকে তারা বগুড়া সদরের পালশা ভবের বাজার এলাকায় কল্পনা ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পৌঁছেন। সে সময় একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগলে সজল ও হোসনে আরা দম্পতি মহাসড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় পেছনে থাকা ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের চালক তাদের পিষ্ট করে চলে যায়। এতে মাথা থেতলে ঘটনাস্থলেই সজলের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা হোসনে আরাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
সজল বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় এলপি গ্যাস ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা করতেন। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, কাহালু থানার এসআই জসিম উদ্দিন জানান, গৃহবধূ বুলবুলি আকতার রবিবার দুপুরের দিকে ওষুধ কিনতে কাহালু উপজেলার বিবিরপুকুর বাজার এলাকায় আসেন। তিনি বগুড়া-নওগাঁ সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করলে মাছবাহী একটি ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দিয়ে পিষ্ট করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কাহালু থানায় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মামলা হয়েছে।