‘আমি কোনও বাইকচোরের (মোটরসাইকেল) পেছনে রাজনীতি করতে আসিনি’ ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি কক্সবাজার জেলা শাখার সদ্য ঘোষিত নতুন কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব জিনিয়া শারমিন রিয়া।
বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জিনিয়া লেখেন, ‘সদ্য ঘোষিত কমিটিতে আমাকে যে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, সে জন্য কৃতজ্ঞ। তবে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জানাচ্ছি যে আমি ওই কমিটি থেকে পদত্যাগ করছি।’
জিনিয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
‘আমি ছাত্রশক্তির জিনিয়া। আমি কোনও বাইকচোরের পেছনে রাজনীতি করতে আসিনি; আমি এই সংগঠনে ভালো মানুষের পেছনে রাজনীতি করতে চাই!
‘আমি আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তা আমার ত্যাগ, পরিশ্রম আর অদম্য অধ্যবসায়ের ফল। এই পরিশ্রম অস্বীকার করার মতো সাহস কারও নেই, থাকলেও তা সত্য বদলাতে পারবে না। নারী হওয়ার কারণে আমাকে প্রতিনিয়ত অবমূল্যায়ন, উপহাস, হেলাসটাক করা হয়েছে, তবু আমি কখনও থামিনি, আর থামবোও না। আমাকে নিয়ে কে কী বলল তা দিয়ে আমি কখনও নিজের পথ ঠিক করিনি; কারণ আমি জানি আমি কে।
‘আমাকে নিয়ে নানা ট্রল, নানা কটূক্তি, শুরু করে। আওয়ামী লীগের অঙ্গন পর্যন্ত অনেকেই করেছে। কিন্তু আমি উঁচু হয়ে দাঁড়িয়েছি। কারণ আমার বিবেক পরিষ্কার, আমার পথ পরিষ্কার।
‘আর যারা বলে আমি নাকি “পদের জন্য পদত্যাগ” করেছি, তাদের জানিয়ে দিই: আমি টপ-থ্রির পদগুলোতে ক্যান্ডিডেট ছিলাম না। যারা যোগ্য, আমি তাদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। সংগঠনের জন্য ত্যাগ মানে সুযোগ লুটে নেওয়া নয়, সেটা আমি কখনও করিনি।
‘আমি কখনোই কোনও অপকর্মে জড়িত বা বিতর্কিত মানুষের পেছনে দাঁড়াইনি, তাও জুলাইয়ে বাইকচোরের। দাঁড়াবও না। বিশেষ করে যারা ব্যক্তিস্বার্থে চুরি-চামারি বা নোংরা কাজ করে, তাদের সঙ্গে আমার কোনও রাজনীতি নেই। জুলাই মাসের ঘটনা, বাইকচুরির ঘটনায় জড়িত এমন মানুষদের আমি সংগঠনে দেখতে চাই না।
‘৫ আগস্টের কঠিন সময় যখন রাস্তায় থাকার কথা ছিল, তখন আমরা মাঠে দৌড়েছি, গলা ফাটিয়েছি। আর কিছু মানুষ লুকিয়ে ছিল, আবার কেউ কেউ সরকারি সম্পদ পর্যন্ত ক্ষতি করেছে– এসব আচরণের দায় সংগঠন নিতে পারে না।
‘তারপরও আজ দেখি- এমন বিতর্কিত মানুষের নাম “টপ সেভেন”-এ তোলার চেষ্টা! শুধু চেষ্টা না, তুলেছে!!! এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনও কোরাম, কোনও অপশক্তি– কেউই একজন অপকর্মে জড়িত ব্যক্তিকে নেতৃত্বের আসনে বসিয়ে দিতে পারে না।
‘যারা সংগঠনের বাইরে বসে আমাকে নিয়ে পোস্ট দেয়, উপহাস করে, তাদের জন্য আমার কোনও বক্তব্য নেই। কারণ আপনারা সত্য জানেন, চোখের সামনে দেখেন, তবু না জানার ভান করেন। সেই ভান একদিন ভেঙে যাবে।
‘ইনশাআল্লাহ, একদিন সব প্রকাশ হবে– কে চাঁদাবাজি করেছে, কে জুলাইখাতা বেচেছে, কে সংগঠনের নামে টাকা তুলেছে, কারা নোংরা রাজনীতি করেছে। সব মানুষের সামনে আসবে।
‘আমি আবারও পরিষ্কার করে বলছি, আমি ছাত্রশক্তির জিনিয়া। আমি কোনও বাইকচোরের পেছনে রাজনীতি করতে আসিনি। আমি এ সংগঠনে ভালো, যোগ্য, পরিচ্ছন্ন মানুষের পেছনে রাজনীতি করতে চাই।
এই কমিটিতে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, মুখ্য সংগঠকের মতো অনেক ভালো এবং যোগ্য মানুষ এসেছেন; তাদের জন্যই আমি নিজের থেকে যোগ্যদের অগ্রাধিকার দিয়েছি।
‘আমি আশা করি তারাও কোনও অপকর্মে জড়িত মানুষের সঙ্গে আপস করবেন না। প্রমাণসহ সব কিছু একদিন সামনে আসবেই। আমি সত্যের পথেই দাঁড়াই, দাঁড়িয়েই থাকবো।
‘ভয় আমি করি না, কারণ সত্য কখনও হারায় না।’









