বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আপনারা জানেন ঠাকুরগাঁও বাংলাদেশের তুলনামূলক দরিদ্র অঞ্চল, এখানে বড় কলকারখানা নেই বললেই চলে। তাই সরকার গঠন করতে পারলে আমরা এ অঞ্চলে সবচেয়ে গুরুত্ব দেবো কৃষিভিত্তিক বড় কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করতে। তাতে আমাদের ছেলেমেয়েদের বড় ধরনের কর্মসংস্থান হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের চণ্ডিপুর ও গড়েয়ায় নির্বাচনি পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
কৃষিই এ অঞ্চলে উন্নয়নের প্রধান খাত উল্লেখ করে এ সময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কৃষকরা মাঝে মাঝেই ফসলের ভালো দাম পান না, যেমন এবার আলুর দাম পাননি। এর অন্যতম কারণ মাত্রাতিরিক্ত আলুর উৎপাদন। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের ফরকাস্টের প্রয়োজন। তাদের নির্দিষ্ট কোনও ফসলের ক্ষেত্রে কৃষকদের এই প্রবণতা দেখা দিলে আগেই পূর্বাভাস দিতে হবে। বেশি বেশি একই ফসলের দিকে ঝুঁকলে মূল্য বিপর্যয় দেখা দেবে।’
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনে আপনারা মা-বোনেরা ডিম, মুরগি ও সবজি বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে মালা বানিয়ে আমাকে দিয়েছিলেন। সেই ভালোবাসার ঋণ আমি ভুলিনি। আপনাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। বিগত নির্বাচনগুলোতে আমি কথা বলতে পারতাম না, শুধু কেঁদেছি। এবার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে—এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’
পথসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আপনাদের পরিচিত মানুষ। ১৯৮৬ সাল থেকে আপনারা আমাকে চেনেন। তখন আমি পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। আজ পর্যন্ত কেউ আঙুল তুলে বলতে পারবে না আমি আপনাদের আমানতের খেয়ানত করেছি।’
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতি করেছি বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে। ঢাকায় যে গাড়ি ব্যবহার করি, সেটি ২০ বছর আগের। আজ যে গাড়িতে এসেছি, সেটিও আমার নয়—একজন সমর্থকের।’
ভোটারদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা অনেক বছর ভোট দিতে পারেননি। এবার সুযোগ এসেছে। আমাকে ধানের শীষে ভোট দিলে আমি সংসদে গিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করতে পারবো। আমি কাজ করা মানুষ।
‘আমরা ভিক্ষা নিয়ে বাঁচতে চাই না, আমরা কাজ করে বাঁচতে চাই। ঠাকুরগাঁওয়ে অনেক উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের মা-বোন ও যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।’
পথসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।









