যে মাঠে এক সময় খেলাধুলায় মেতে উঠতো তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান, সেই মাঠের পাশের কবরস্থানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হতে হলো তাকে। মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে নিহত হয় শিশুটি। রবিবার তার নামাজে জানাজায় শোকাহত মানুষের ঢল নামে।
বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় হুজাইফার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় উখিয়া-টেকনাফ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা আমির ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুর মোহাম্মদ আনোয়ারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন।
এর আগে সকাল থেকেই হুজাইফার মরদেহ একনজর দেখার জন্য তার বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্তানের শোকে মা-বাবার হৃদয়বিদারক আহাজারিতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা অশ্রুসজল হয়ে পড়েন। হুজাইফা ছিল পরিবারের বড় সন্তান এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর হুজাইফার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজা শেষে উপস্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় যেন আর কোনও নিরীহ প্রাণ ঝরে না পড়ে, সেজন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। মিয়ানমারের গুলিতে নিরীহ শিশুর মৃত্যুকে তারা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’ এ বিষয়ে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানান বক্তারা।
উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘর্ষের সময় দেশটি থেকে ছোড়া একটি গুলিতে গুরুতর আহত হয় শিশু হুজাইফা। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ২৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে মারা যায়।







