কুষ্টিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে সামিয়া নিঝুম নামে মেডিক্যাল কলেজের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের হাউজিংয়ের ই-ব্লক এলাকার একটি বাসার চারতলার রুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সামিয়া কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ছোট শালিখা এলাকার আব্দুস সালামের মেয়ে।
ওই বাসার কেয়ারটেকার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘নিঝুমের বাবা আমাকে মোবাইল ফোনে জানান তার মেয়ে ফোন ধরছেন না। আমি তখন এসে পাশের রুমের এক মেয়েকে ডেকে নিঝুমের রুমে গিয়ে নক করি। তাতে কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। তখন নিঝুমের বাবা দরজা ভেঙে দেখতে বলেন। তখন আমিসহ পাশের সাবলেট থাকা মেয়েরা দরজা ভাঙার চেষ্টা করি। উপরে ছিটকানি দেওয়া থাকায় নিচের দরজা হালকা ফাঁকা হয়ে গেলে আমরা দেখি সে বিছানায় নেই জানালার সঙ্গে ঝুলছে।’
পাশের রুমের আরেক ছাত্রী বলেন, ‘বাড়ির দেখভালের দায়িত্বে থাকা নানা এসে আমাদের নক করে বলেন, নিঝুম আপুর বাবা ফোন দিয়েছেন তার খোঁজ নেওয়ার জন্য। আমরা নানাসহ নিঝুম আপুর রুমে বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করি। পরে দরজার কিছুটা ফাঁকা জায়গা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে আপুর মরদেহ উদ্ধার করে।’
কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটা পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিল। সে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। আর এক বছর থাকলেই সে ডাক্তার হয়ে বের হতে পারতো।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মাতুব্বার বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’









