গভীর সমুদ্রে নিম্নচাপ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় জেলা বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বরগুনায় প্রধান তিন নদী বিষখালী, বুড়িশ্বর ও বলেশ্বরের পানি বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। বরগুনার ৬ উপজেলার ৪৫টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রতিদিন দু’বার করে জোয়ারের পানিতে ভাসছে আর ভাটায় শুকাচ্ছে।
বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বরগুনার বিষখালী নদীর ক্রোক পয়েন্টে জোয়ারের মোট উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ২৭ মিটার যা বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙার খবর পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে আরও জানা গেছে, বরগুনার ৯০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে বিভিন্ন পোল্ডারে ২০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। এরপরেও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে সাড়ে ছয় কিলোমিটার। এছাড়া বরগুনায় সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে বরগুনার ১৮টি স্থানে ৯৬০ মিটার বাঁধ সম্পূর্ণভাবে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮ কিলোমিটার বাঁধ।
এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলার, বালিয়াতলী, নিশানবাড়িয়া, নলটোনা, ডালভাঙ্গা, পাথরঘাটা উপজেলার জীনতলা, রুহিতা, বাদুরতলা, কোড়ালিয়া, নিজ লাঠিমারা, ছোট টেংরা, গাববাড়ীয়া, বেতাগী উপজেলার আলিয়াবাদ, ঝোপখালী, ভোলানাথপুর, জগাইখালী, কালিকাবাড়ী, গাবতলী, জোয়ার করুনা, গ্রেমর্দন, তালতলীর খোটটার চর, নলবুনিয়ার চর, আশার চর, তেতুল বাড়ীয়া, আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া, বালিয়াতলী, উত্তর বালিয়াতলী, দক্ষিন বালিয়াতলীসহ অন্তত ৪৫টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে ভাসছে আর ভাটায় শুকাচ্ছে।
এরমধ্যে পাথরঘাটার জীনতলার ও আমতলী উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। জনজীবন রয়েছে হুমকির মুখে। ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে ভেসে গেছে ঘর-বাড়ি, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও মাছের ঘের। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে ভাঙন কবলিত ও পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকার মানুষেরা। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক ড. বশিরুল আলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থানের বেড়িবাঁধ ভাঙার খবর নিয়েছে । বাঁধ সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগও দেওয়া হয়েছে একই সঙ্গে পানি কমে গেলে বাঁধ মেরামত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাথরাঘাটার জীনতলার ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পায়রা বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত, অভ্যন্তরীণ রুটে নৌ চলাচল বন্ধ
/এআর/







