পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিশাখালীতে ফুটবল খেলা দেখে ফেরার পথে বখাটেদের হামলায় রাহাত মিয়া নামে এক কলেজছাত্র নিহত ও তার তিন বন্ধু আহত হয়েছেন। নিহত রাহাত মিয়া গুলিশাখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গুলিশাখালী গ্রামের শাহআলম হাওলাদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। আহত শুভ, সানাউল ও আরিফের বাড়িও একই ওয়ার্ডের গুলিশাখালী ও দক্ষিণ গুলিশাখালী এলাকায়।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নারী সংক্রান্ত ঘটনার জেরে রাহাত মিয়া তার বন্ধু শুভ, সানাউল ও আরিফের ওপর এ হামলা হয়েছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত তাদের নাম জানা গেলেও এই মুহূর্তে তা বলা যাচ্ছে না। তবে হামলাকারীদের বাড়ি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গুলিশাখালীতে বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, শুক্রবার রাতে পাশের এলাকার এক ছেলে দক্ষিণ গুলিশাখালী এলাকার এক মেয়ের কাছে যায়। নিহত রাহাতের বন্ধু শুভ ওই ছেলেকে আটকে মারধর করে ছেড়ে দেয়। পরে ওই ছেলে শুভর ওপর আক্রোশ মেটাতে ছাব্বির ও তার সহযোগীদের ভাড়া করে। শনিবার রাতে তারা রাহাত মিয়া, শুভ, সানাউল ও আরিফের ওপর হামলা করে।
স্থানীয়রা জানান, রাহাত মিয়া শনিবার বিকালে গুলিশাখালী স্কুল মাঠে ফুটবল খেলা দেখে বন্ধুদের সঙ্গে ফেরার পথে রাত ১০ টার দিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষণা এলাকায় পৌঁছালে ছাব্বির নামে এক যুবক ও তার সহযোগীরা রাহাত মিয়া ও তার বন্ধুদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। স্থানীয়রা রাহাত মিয়া ও তার বন্ধুদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাহাত মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজু চন্দ্র সরকার জানান, রাত পৌঁনে ১০টার দিকে আহত রাহাত মিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় তার পর পালস ছিল, কিছু সময় পর তিনি মারা যানি। আহত সানাউল, আরিফ ও শুভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মঠবাড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আ. হক জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।









