X
মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪
১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

স্বজন ছাড়াই ঈদ কাটবে আশ্রয়কেন্দ্রের শিশুদের

ইবরাহীম সোহেল, বরগুনা
১১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৭আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৭

ঈদ মানেই আনন্দ। আর এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ ছুটে আসে স্বজনের কাছে। তবে সরকারি শিশু পরিবার, শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন বালক-বালিকা কেন্দ্রের শিশু-কিশোররা খুব অল্প বয়সেই পরিবারছাড়া। মা-বাবাহারা এসব শিশুর স্বজন ছাড়াই চার দেয়ালের মাঝে কাটবে তাদের ঈদ আনন্দ।

সরেজমিনে দেখা যায়, এখানে থাকা শিশু-কিশোরদের কারও বাবা নেই, কারও বাবা-মা দুজনেই নেই। স্বজনহারা শিশুদের ঈদের দিন কাটবে চার দেয়ালের মাঝেই। এখানকার শিশু-কিশোরদের কাছে প্রতিবছর ঈদ উৎসব মানেই অন্য সব দিনগুলোর মতোই। ঈদে বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা দুঃস্বপ্নই থেকে যায়।

কেন্দ্রে আশ্রয়রত অনেক শিশু-কিশোরের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। ছয় বছর বয়স থেকে এখানে জীবন যাপন করছে তারা। তবে তাদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার ইচ্ছা থাকলেও, তা আর পূরণ হয় না কখনো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা সরকারি শিশু পরিবার কেন্দ্রে মোট আসনসংখ্যা শতাধিক থাকলেও বর্তমানে এখানে রয়েছে বিভিন্ন বয়সের ৫১ জন শিশু-কিশোর। তাদের মধ্যে মা-বাবা নেই ৮ জনের। অনেকের শুধু মা আছেন। কিন্তু থাকলেও অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন। আর ৪৫ জন ঈদ করবে এই শিশু পরিবারে। তাদের মধ্যে কেউ ঈদের দিন বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পেলেও পরিবারে অভাব-অনটনের কারণে যেতে পারছে না। একরাশ চাপা কষ্ট নিয়ে ঈদের দিন পার করবে তারা।

বরগুনা সরকারি শিশু পরিবারে বসবাসরত ইমাম হাসান ও ইমাম হোসেন যমজ ভাই। তারা প্রথম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। তারা বলে, বাবা মারা যাওয়ার পর এই শিশু পরিবারে আমাদের রেখে মা অন্য জায়গায় বিয়ে করেছেন। আমাদের তো আর যাওয়ার জায়গা নাই, তাই এখানেই আমরা ঈদ করবো।

বরগুনা সরকারি শিশু পরিবার (বালক) কেন্দ্রের নবম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ বলে, আমার বাবা নাই। আমাদের এখানের ঈদের দিন ভালো মানের খাওয়া-দাওয়া হবে। আমি এখানে ঈদ করে বাড়ি যাবো। এখানে ঈদ করলে ভালো খাইতে পারি। বাড়িতে তো আর ভালো খাবার পাবো না। কারণ বাবা নাই, কে আমাদের ভালো কিছু খাওয়াবে?

শিশু পরিবারের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া মেহেদী হাসান বলে, বাবা মারা যাওয়ার পর মা এখানে ভর্তি করিয়েছিলেন। তবে কিছুদিন পর মা-ও মারা গেছেন। এখন আমার কেউ নাই। এখানের স্যারেরাই আমার মা-বাবা। অশ্রুসিক্ত চোখে মেহেদী বলে, ঈদের নামাজ পড়ে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার কবর জিয়ারত করে আবার চলে আসবো।

বরগুনা শিশু পরিবার কেন্দ্রের সহকারী শিক্ষক নাদিমুর রহমান বলেন, এখানে শতাধিক আসন রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে রয়েছে ৫১ জন শিশু-কিশোর। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি শিশু-কিশোরের জন্য নতুন জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্পেশাল খাবারের ব্যবস্থা আছে। যাতে তারা পরিবারে যেতে না পারার কষ্টটা ভুলে যায়। এসব এতিম বাচ্চাকে সব সময় আমরা আদর দিয়ে তাদের দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করি।

বরগুনা শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক আবু জাফর বলেন, আমাদের এখানে ১৮০ জন বালক-বালিকা রয়েছে, এর মধ্যে অনেকেই স্বজনদের সাথে ঈদ কাটাতে বাড়িতে চলে গেছে। তবে যাদের যাওয়ার মতো জায়গা নাই, তারা এখানেই ঈদ কাটাবে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া তাদের জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন খাবারের মেনু রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাদের কেউ নাই, সেসব শিশু-বিশোরের কষ্ট দূর করার জন্য আমাদের সর্বাধিক চেষ্টা থাকবে। আমরা সব সময় তাদের পাশে রয়েছি।

বরগুনা সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুরা যাতে মন খারাপ না করে, সে জন্য ঈদের দিন তাদের পছন্দমতো কাপড়, ভালো খাবারসহ ঈদের দিনটিকে আনন্দময় করতে নানা প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

/এনএআর/
সম্পর্কিত
পোশাকশ্রমিকদের ৯ দাবি
ইংল্যান্ডের লিডস শহরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন
ফিতরা-জাকাতের নামেও প্রতারণা
সর্বশেষ খবর
সরকারি চাকরিতে কত পদ খালি জানালেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী
সরকারি চাকরিতে কত পদ খালি জানালেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী
এলো ‘পঞ্চায়েত’র নতুন সিজন, যা বলছেন সমালোচকরা
এলো ‘পঞ্চায়েত’র নতুন সিজন, যা বলছেন সমালোচকরা
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে মারা যাওয়া ৩০টি হরিণ উদ্ধার
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে মারা যাওয়া ৩০টি হরিণ উদ্ধার
ইসরায়েলকে এখনও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র   
রাফাহ শহরে হামলাইসরায়েলকে এখনও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র  
সর্বাধিক পঠিত
সর্বোচ্চ উপকার পেতে কাঠবাদাম কীভাবে খাবেন?
সর্বোচ্চ উপকার পেতে কাঠবাদাম কীভাবে খাবেন?
এবারও ধরাছোঁয়ার বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি
এবারও ধরাছোঁয়ার বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি
বৃষ্টি থাকবে মঙ্গলবারও  
বৃষ্টি থাকবে মঙ্গলবারও  
ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান
ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান
রাবিতে খাবারে সিগারেট: আন্দোলন-ভাঙচুরে জড়িতদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত
রাবিতে খাবারে সিগারেট: আন্দোলন-ভাঙচুরে জড়িতদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত