বরগুনায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে বিএনপি কর্মী। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিএনপির কর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করেন।
এ বিষয়ে আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, দুপুরের দিকে তিনি ডিসি অফিসে প্রবেশের সময় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফারুক মোল্লার ছেলে শাওনসহ তার সঙ্গীয় কয়েকজন মিলে তাকে ডাক দেয়, ‘চাচা কথা শোনেন’। তিনি কাছে এলে তাকে শাওন অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে এবং এক পর্যায়ে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এ সময় তার চোখে থাকা চশমা খুলে ছুড়ে ফেলে দেন। পরে লাঞ্ছিত করার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
আব্দুর রশিদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে নবাগত পুলিশ সুপার ইবরাহীম খলিল তাকে কল করে থানায় মামলা করতে বলেন।
মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করায় ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দাবি করেন, আব্দুর রশিদ মিয়া ৭১-এ রাতে ডাকাতি করেছেন। বরগুনার তালতলী উপজেলা এলাকার অনেক পরিবারের স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুট করার অভিযোগ থাকলেও কেউ সাহস নিয়ে কথা বলতে পারেনি। কেউ সত্য বললে অকথ্য ভাষায় তাকে অপমান করেছেন। তারপরও এ ধরনের লাঞ্ছনা নিন্দনীয়। বয়স্ক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করাটা দুঃখজনক। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারতো।
একই মন্তব্য করেছেন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। তারা বলেন, আমাদের মনেও অনেক কষ্ট রয়েছে, তার আচরণে। আমাদেরকেও অপমান-বেইজ্জতি করেছেন অনেক বার। এর প্রতিশোধ কখনও নিতে চাইনি। কারণ তার সঙ্গে পেরে উঠবো না। তবে যেটা তার সঙ্গে করা হয়েছে সেটা দুঃখজনক। আমরা অপরাধীদের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে বরগুনা থানার ওসি (তদন্ত) আরিফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









