পটুয়াখালীতে এক গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে ফারুক হোসেন প্যাদা নামের এক স্থানীয় জামায়াত নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তাঁকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত ফারুক হোসেন প্যাদা ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, এক গৃহবধূর সঙ্গে ফারুক হোসেনের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে কয়েকজন তাকে আটকের পরে মারধর করেন। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত জামায়াত নেতা ফারুক হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন। তার দাবি, স্থানীয় সাইদুল, পারভেজসহ মৃধা বাড়ির চার থেকে পাঁচজন পূর্ববিরোধের জেরে তার ওপর হামলা চালিয়েছেন। এ সময় তার কাছে থাকা টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফারুক আরেও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আগে থেকেই তাদের সঙ্গে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করেই আমাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। পরে আমার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
অন্যদিকে ওই গৃহবধূর শাশুড়ি দাবি করেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে তার পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন। এমনকি তাকে টাকা পয়সার প্রলোভন দেখাতেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই ঘটনায় তারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে সেই বিরোধের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।









