মালয়েশিয়ায় নিখোঁজ মিজানের খোঁজ চায় পরিবার

চাঁদপুর প্রতিনিধি
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২০আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫২

মিজানের পরিবার
জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন চাঁদপুরের কচুয়ার মিজানুর রহমান মোল্লা (৫০)। প্রায় ৬ মাস ধরে তার কোনও খোঁজ পাচ্ছে না স্ত্রী-সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির খোঁজ না পেয়ে দিশেহারা হতদরিদ্র পরিবারটি। অনাহারে-অর্ধাহারে কাটছে তাদের দিন। মিজান কাজ করতেন মালয়েশিয়ার কোতরাইয়া বাংলা মার্কেট কেয়াল সেন্টারে। 

স্বজনরা জানান, ২০০৯ সালে মিজান প্রথম মালয়েশিয়া যান। ২০১৪ সালে তিনি দেশে আসেন। এরপর তিনি কয়েক মাস থেকে আবার পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সর্বশেষ স্বজনদের সঙ্গে কথা হয় মার্চে। তখন তিনি তার স্ত্রী হনুফা বেগমকে জানান, তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ভিসা লাগিয়েছি। আশা করি, দ্রুত কাজ হয়ে যাবে।
হনুফা বেগম বলেন, ‘গত ছয় মাস ধরে আমার স্বামীর কোনও খোঁজ পাচ্ছি না। তিনি যে রুমে থাকতেন সেখান থেকে অন্য রুমে চলে যান। রমজানের কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সেখান থেকেও চলে যান। এরপর থেকে আর আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই।’
তিনি জানান, তার স্বামী এক মালয়েশিয়ানের মাধ্যমে তার ওয়ার্ক পারমিট রিনিউ করতে দিয়েছেন। কাগজপত্র এসেছে কিন্তু তার খোঁজ নেই। এ অবস্থায় তার সন্ধানের জন্য সরকার এবং ওই এলাকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের অনুরোধ জানাই।
তিনি বলেন, ‘আমার দুটো মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। একমাত্র ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। কতকষ্টে চলছি, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। এখন ঠিকমতো দু’বেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ছেলেকেও পড়ালেখার খরচও দিতে পারছি না। এখন শুধু চাই, আল্লাহ যেন আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দেন।’

মিজান

মিজানের বাবা সুলতান মোল্লা বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনও খোঁজ পাচ্ছি না। সে কোথায় আছে, কী হালে আছে বা নাই তা জানতে চাই। আমার ছেলের সন্ধান দিতে আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই।’
মিজানের পরিচিত প্রবাসী আবুল কাশেম বলেন, নিখোঁজের দুই-তিন দিন আগে আমি বাঙালিদের কাছ থেকে টাকা উঠিয়ে দেড়শ’ টাকা দেওয়ার পর তিনি একশ’ টাকা বাড়িতে পাঠায়। মিজান মালয়েশিয়ার কোতরাইয়া বাংলা মার্কেট কেয়াল সেন্টারে ডেইলি হাজিরা হিসেবে কাজ করতো। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এক মাইয়ের মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট করে। এখন তিনি কোথায় আছেন আমরা জানি না। আমরা যদি সন্ধান পেতাম তাহলে একটা কিছু করার চেষ্টা করতাম। যদি তিনি জেলেও থাকেন সন্ধান পেলে আমরা কিছু করার চেষ্টা করতাম।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান বলেন, কিছু কাগজপত্রসহ তার স্বজনদের প্রবাসী কল্যাণে যোগাযোগ করতে হবে। তাহলে আমরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। প্রয়োজনে আমরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

/এসটি/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী