পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে প্রথম দিনে ভ্যাকসিন নিয়েছেন সম্মুখ সারির ৩১৬ জন। রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদের করোনা ভ্যাকসিন (টিকা) গ্রহণের মধ্য দিয়ে জেলায় শুরু হয়েছে এর কার্যক্রম।
এরপর একে একে টিকা গ্রহণ করেন সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাচ্ছের হোসেন, চাকমা সার্কেল চিফ ব্যরিস্টার দেবাশীষ রায়সহ স্বাস্থ্যকর্মী ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিয়মিত বের হওয়া সম্মুখ সারির যোদ্ধারা।
লংগদু উপজেলার যুব রেড ক্রিসেন্ট-এর সদস্য মো. তানবির হোসেন সন্ধ্যায় বলেন, বেলা ১২টায় টিকা নেওয়ার পর সারাদিন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছি। এখনও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবু সুস্থ আছি, কোনও শারীরিক সমস্যা অনুভূত হচ্ছে না।
বাঘাইছড়ির স্থানীয় সাংবাদিক মো. নাছের উদ্দিন বলেন, ‘ভ্যাকসিন নেওয়ার পর সুস্থ আছি। কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেওয়া যাচ্ছে না। আমার উপজেলায় যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারাও সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন।
নারীনেত্রী টুকু তালুকদার বলেন, টিকা নেওয়ার পর হাসপাতালে কিছুক্ষণ বসেছিলাম পরে বাসায় এসে কাজও করলাম। টিকা গ্রহণ করেছি শুনে আশপাশের লোকজন খবর নিচ্ছে। তাদেরও বলছি ভালো আছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও ধরনের সমস্যা মনে হয়নি।
রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, ভ্যাকসিন নেওয়ার পর সারাদিন অফিস করেছি। অন্যদিনের মতোই আছি। অস্বাভাবিক কোনও কিছু মনে হয়নি এখন পর্যন্ত।
সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা বলেন, প্রথম দিনে ৩১৬ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ আছেন। আমি নিজেও সুস্থ আছি। তিনি আরও জানান, প্রতি মাসে টিকা আসবে। অত্র এলাকার সকল জনগোষ্ঠী এই টিকার আওতায় আসবে। অনেকের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও আজকের পর আশা করি সব বিভ্রান্তি কেটে যাবে।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ বলেন, আমি বেলা ১১টায় টিকা নেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে ৩০ মিনিট বসে বিশ্রাম করি এবং তারপর যথারীতি অফিসের কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় বসায় আসি। এখন পর্যন্ত শারীরিকভাবে অন্য ১০ দিনের মতোই আছি।
তিনি আরও বলেন, আমি সকালে টিকা গ্রহণ করেছি এবং সুস্থ আছি। টিকা নিয়ে অনেকে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। সেদিকে কান না দিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন এবং টিকা গ্রহণ করুন।









