চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণে কয়েক শ’ কোটি টাকা লোপাটের চেষ্টার অভিযোগকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র করছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। বিবৃতিতে তারা বলেন, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতির অপচেষ্টা হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনতে হবে।
রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর চাঁদপুরের প্রতিনিধি সাইফুদ্দিন বাবুর পাঠানো এক বিবৃতিতে নানা বিষয়ে বলা হয়। বিবৃতিতে সই করেন– জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইউসুফ গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সুনাম, খ্যাতি, সফলতা যতই বাড়তে থাকে কুচক্রী মহলটি তাদের ষড়যন্ত্রের ডালপালা নানাভাবে বিস্তার করতে থাকে। সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নানা প্রপাগান্ডা, অপপ্রচার ও মিথ্যাচার। আর এই ষড়যন্ত্রে প্রকাশ্যে চলে আসলেন আমাদের দলেরই এই জেলার অভিভাবক চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। তিনি বুঝে হোক আর না বুঝে হোক, দলের এবং সরকারের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ফাঁদে পা দিয়ে ফেললেন। বিদেশ থেকে পরিচালিত একটি অনলাইন মিডিয়ায় নাছির দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি অনেক মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য দিয়েছেন। যা দল এবং সরকারের বিরুদ্ধে তার স্পষ্ট অবস্থান হিসেবে ইতোমধ্যে প্রতীয়মান হয়েছে। যেখানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই, সেখানে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ আনাটা নিতান্তই ব্যক্তিগত আক্রোশ এবং ঈর্ষাপরায়ণ বলে আমরা মনে করি। নাছির উদ্দিন আহমেদের কোনও কথা বা অভিযোগ থাকলে তিনি তা দলীয় ফোরামে বলতে পারতেন। সাংগঠনিক নিয়মও তাই। তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তিনি দল এবং সরকারের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে স্পষ্ট বলেছেন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে নির্ধারিত জায়গা থেকে তার বা তার পরিবারের বিন্দুমাত্র সুবিধা নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কারণ, সেখানে তার বা তার ভাইয়ের নামে কোনও জায়গাই নেই। তিনি একই সংবাদ সম্মেলনে তার বড় ভাই চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি ডা. জেআর ওয়াদুদ টিপুর পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করে তার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন। এ ছাড়া ওই সংবাদ সম্মেলনে ডা. দীপু মনি চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার মন্ত্রণালয় (শিক্ষা) ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনও মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত করার কথাও বলেছেন। এরপর আর কোনও কথাই থাকতে পারে না বলে আমরা মনে করি। তারপরেও ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই। তারা নানাভাবে মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে হীন উদ্দেশ্যে।
‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট– চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি নিয়ে কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতির অপচেষ্টা হয়ে থাকলে অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যটা বের হয়ে আসুক। যা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও দৃঢ়তার সঙ্গে বলে আসছেন। আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেমন দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, আমরাও এ ব্যাপারে আপসহীন।’
বিবৃতিতে জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলা হয়, ‘জেলার সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ অনলাইন মিডিয়ায় বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার পর ওইদিন আমরা এ বিষয়ে দলীয়ভাবে করণীয় নির্ধারণ করতে জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি তা গুরুত্ব না দিয়ে পরবর্তী সময়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন। গত বুধবার জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সই একটি বিবৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে যা স্পষ্ট হলো। এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য, এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া সংগঠনের বিধি বহির্ভূত। ওই বিবৃতিতে তারা সম্প্রতি চাঁদপুর শহরসহ জেলাব্যাপী বিক্ষোভ-প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করেছেন। এতে প্রমাণ হয়ে গেলো, এসব ষড়যন্ত্রে তারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।’
আরও খবর: ‘ভূমি অধিগ্রহণে আমার বা আমার পরিবারের লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই’
কারও দুর্নীতির দায়ভার নেবে না চাঁদপুর আওয়ামী লীগ









