চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে শাহরিয়ার নাজিম জয় ওরফে ফাহিম (১৫) নিহতের ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (১৮ এপ্রিল) তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ১৫ এপ্রিল রাতে বন্ধু অভিকে নিয়ে হালিশহর দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে ঈদ বস্ত্র মেলায় যায় ফাহিম। সেখানে অভির সঙ্গে অপরিচিত কয়েকজন কিশোরের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা অভিকে মারধর করে। পরে বন্ধুদের ফোন করে বিষয়টি জানায় অভি। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টায় পাহাড়তলী থানার ঈদগাঁ কাঁচা রাস্তার মাথা এলাকায় আসে অভি ও তার বন্ধুরা। সেখানে তাকে মারধরে জড়িতরাও উপস্থিত ছিল। উভয়ে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে। এ সময় একজন ছুরি বের করে তাদেরকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এ সময় ফাহিম ও আরেক কিশোর ছুরিকাহত হয়।
আরও পড়ুন: দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো কিশোরের
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহত আরেক কিশোর এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ১৬ এপ্রিল রাতে নিহতের বাবা জহির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পর জড়িত থাকার অভিযোগে এক কিশোরকে (১৫) গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জের নিকলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরেক কিশোরকে (১৪) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানার সরাইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি ছোরা উদ্ধার করা হয়।
ফাহিমের বাবা জহির হোসেন বলেন, ‘আমার এক ছেলে এক মেয়ে। ফাহিম মনসুরাবাদ গণপূর্ত বিদ্যা নিকেতন থেকে গতবার জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় তাকে মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে ভর্তি করি। আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই।’









