চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ছেলে মাঈনুল ইসলামকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পটিয়া থানা পুলিশ। রবিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে পটিয়া থানায় নেওয়া হয়। বিকাল থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম চৌধুরী।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মাঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা হয়। এরমধ্যে হত্যা ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয় সাতকানিয়া থেকে। এ কারণে র্যাব সাতকানিয়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলাটি দায়ের করে। এ তিন মামলায় গত ২৪ আগস্ট পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর সিংহের আদালতে পুলিশ ১৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরমধ্যে পটিয়া থানার দুটি মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিন এবং সাতকানিয়া থানায় অস্ত্র মামলায় দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মায়ের দিকে দুবার গুলি ছোড়ে মাইনুল, একটি দেয়ালে আরেকটি চোখেওসি বলেন, হত্যা মামলায় মাঈনুলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পরবর্তীতে অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং গুলি উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর সাতকানিয়া থানা পুলিশ তাকে অস্ত্র উদ্ধার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে পটিয়ার সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা সামশুল আলম মাস্টারের ছেলে মাইনুল তার মা জেসমিন আকতারকে গুলি করে হত্যা করে। সেদিন প্রথম গুলিটি সে বড় বোন শায়লা শারমিন নিপাকে করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ভাগ্যক্রমে গুলিটি মিস ফায়ার হওয়ায় নিপা প্রাণে বেঁচে যান। পরের গুলিটি লাগে মা জেসমিন আকতারের বাম চোকের নিচে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ওইদিন রাতে বড় বোন নিপা তার মাকে হত্যার দায়ে ছোট ভাই মাইনুলের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। বাড়িতে অবৈধভাবে অস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগে পটিয়া থানায় অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করেন পটিয়া থানার এসআই আমিনুল ইসলাম। পরে গত ১৭ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে পালানোর সময় বাকলিয়া থানার নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে মাইনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলার সাতকানিয়া থানার রসুলপুর এলাকার একটি গুদামঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। এতে র্যাব বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করে।








