X
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
৯ আশ্বিন ১৪২৯

প্রেমে বাধা দেওয়ায় প্রেমিকার ভাইকে হত্যা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:০৬আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:২৪

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে মো. সিয়াম (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার গাজীপুর আজিজিয়া সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর হাতে খুন হয় সে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনার পর থেকে তাদের উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছেন না। এদিকে এ ঘটনায় আট দাখিল পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। সিয়াম তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের চর মোহনপুর এলাকার হেলাল উদ্দিন ওরফে বাক্কার ছেলে।

সূত্র বলছে, এই ঘটনার পেছনে রয়েছে একটি প্রেমের কাহিনী। আটক হওয়া ওই আট কিশোরের একজন নাজমুল হোসেন। সে তিতাসের পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা এবং ওই এলাকার ব্রাহ্মণচর সিনিয়র আলিম মাদরাসার শিক্ষার্থী। তার সঙ্গে নিহত সিয়ামের চাচাতো বোনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই কিশোরীও ব্রাহ্মণচর মাদরাসার শিক্ষার্থী। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্ক চলে আসছিল। দাখিল পরীক্ষা শুরুর কয়েক দিন আগে নাজমুল ও তার বন্ধুরা ওই কিশোরীর এলাকায় ঘুরতে যায়। এ সময় সিয়াম বিষয়টি জানতে পারে। সে নাজমুল ও তার বন্ধুদের ওই এলাকায় যেতে নিষেধ করে।

আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে কিশোরকে হত্যা

‘এদিকে চোখ দিবা না’ বলে তাদের এলাকা থেকে বের হয়ে যেতে বলে সিয়াম। এতে কয়েকদিন ধরেই ক্ষুব্ধ নাজমুল ও তার বন্ধুরা। পরীক্ষা শুরুর আগেই নাজমুল ও তার সাত বন্ধু পরীক্ষার সময়টায় কেন্দ্রের পাশে অবস্থান করবে বলে তিতাসের গাজীপুর আজিজিয়া সিনিয়র দাখিল মাদরাসার পাশে সাময়িক সময়ের জন্য একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়।

বৃহস্পতিবার সিয়াম তার এক চাচাতো ভাইকে নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যায়। নাজমুল ও তার সাত বন্ধু পরীক্ষা শেষে বের হলে সামনে নাজমুলকে দেখতে পায়। তাকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় একটি মাঠ সংলগ্ন চা দোকানে। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ তাদের বাগবিতণ্ডা করতে দেখে স্থানীয়রা। পরে এক পর্যায়ে সিয়াম নাজমুলের গালে চড় দিলে সংঘর্ষ বাধে। সাত বন্ধু মিলে নাজমুলকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে।

নাজমুলের এক বন্ধু সাকিব ভাড়া বাসায় গিয়ে চাকু নিয়ে আসে। সিয়ামকে কয়েকজন ধরে এবং একজন তার তলপেটে ছুরিকাঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সিয়াম। দৌড়ে পালিয়ে যায় নাজমুল, সাকিব ও তার বন্ধুরা।

জানা গেছে, প্রথমে সিয়ামকে কেউ ধরতে আসেনি। পরে আসামিরা পালিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা তাকে তিন থেকে চার মিনিটের দূরত্বের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায় সে। নিহত সিয়াম তিতাসের মজিদপুর ইউনিয়নের চর মোহনপুর এলাকার বাক্কা মিয়ার ছেলে।

তিতাস পুলিশের একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, ওই আট শিক্ষার্থীর সবাই তাদের হেফাজতে রয়েছে। তাদের চার জনের বয়স ১৯-এর বেশি। চার জনের বয়স ১৭-এর বেশি এবং আঠারো ছুঁই ছুঁই। তারা কোন কিশোর গ্যাং বা দলের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন এবার দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারের মত দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। কেউ কেউ আগে উত্তীর্ণ হতে পারেননি এবং পরীক্ষা দেয়নি।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ঘটনার পর কয়েকজনকে আটক করেছি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তাদের মধ্যে নাজমুল ও সাকিব নামের দুই জন রয়েছে। এখনই কিছু বলতে পারছি না। তবে এখন পর্যন্ত যা বুঝতে পারছি প্রেমে বাধা দেওয়ার কারণেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।’

/এমপি/
সম্পর্কিত
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
পরীক্ষায় বসে ফেসবুকে লাইভ, দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
পরীক্ষায় বসে ফেসবুকে লাইভ, দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
দুই গ্রুপের কোন্দলে মধ্যরাতে উত্তপ্ত ইডেন কলেজ
দুই গ্রুপের কোন্দলে মধ্যরাতে উত্তপ্ত ইডেন কলেজ
রামনাথ বিশ্বাসের বসতভিটা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে ১০০ নাগরিকের বিবৃতি
রামনাথ বিশ্বাসের বসতভিটা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে ১০০ নাগরিকের বিবৃতি
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
এ বিভাগের সর্বশেষ
পরীক্ষায় বসে ফেসবুকে লাইভ, দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
পরীক্ষায় বসে ফেসবুকে লাইভ, দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
‘আমার মাকে পেয়ে গেছি’
‘আমার মাকে পেয়ে গেছি’
খুলনার নিখোঁজ সেই রহিমা ফরিদপুরে জীবিত উদ্ধার
খুলনার নিখোঁজ সেই রহিমা ফরিদপুরে জীবিত উদ্ধার
ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু, চেয়ারম্যান আসাদকে আ.লীগ থেকে বহিষ্কার
ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু, চেয়ারম্যান আসাদকে আ.লীগ থেকে বহিষ্কার