সেই ইউএনও’র বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপিলেও বহাল

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৯:২৫আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৯:২৫

বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া খাগড়াছড়ির রামগড়ের সেই ইউএনও’র বিরুদ্ধে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগেও বহাল রয়েছে। সোমবার (৯ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দীকীর নেতৃত্বে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসাইনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। একইসঙ্গে আদালত তিন মাসের মধ্যে রিটটিও নিষ্পত্তি করতে বলেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোরশেদ। ইউএনও খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ইউএনও’র বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার আদেশ বহাল রাখেন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই দিনমজুরের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিতে হাইকোর্টে রিট করা হয়। গত ২০ নভেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার দিনমজুর আবুল কালাম ও রুহুল আমিনকে দেওয়া সাজা কেন অবৈধ হবে না এবং তাদের কেন ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে ওই ইউএনও-কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা থেকে বিরত রাখতে নির্দেশ দেন আদালত। জনপ্রশাসন সচিব ও খাগড়াছড়ির ডিসিকে এ নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়। ওই দিন বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছিলেন।

এদিকে, হাইকোর্ট থেকে বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া সেই ইউএনও অস্ট্রেলিয়া চলে গেছেন গত ৮ জানুয়ারি।  এরই পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত তার সরকারি ছুটি মঞ্জুর করেছে। গত ৭ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন।

তথ্যমতে, গত ৫ আগস্ট একটি দৈনিক পত্রিকায় ‘প্রশাসন-বিজিবি বিরোধ: কারাগারে দিনমজুর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জমি নিয়ে বিরোধ চলছে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা প্রশাসন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে। আর সেই বিরোধের সঙ্গে না থেকেও কারাগারে যেতে হলো দুই দিনমজুরকে। গত ১ আগস্ট রামগড় উপজেলা প্রশাসন ও বিজিবি বিরোধপূর্ণ জায়গায় বেড়া দেওয়ার কাজ করতে গেলে ইউএনও ইখতিয়ার উদ্দিন দুই দিনমজুরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেন। দিনমজুরের কারাদণ্ডের পর বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। চট্টগ্রামে দুই দিনমজুরকে আইনি সহায়তা দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসানসহ অন্যান্যরা।

/এফআর/
সম্পর্কিত
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
রামিসা হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের
সর্বশেষ খবর
ইরান ও লেবাননে একসঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে হবে: আরাঘচি
ইরান ও লেবাননে একসঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে হবে: আরাঘচি
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি