কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণের শিকার ছয় রোহিঙ্গা নাগরিক তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন। শনিবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টেকনাফের চাকমারকুল পাহাড়ি এলাকায় তাদের ছেড়ে দেয় বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মঞ্জুরুল ইসলাম।
তিনি জানান, এ ঘটনায় চাকমারকুলের স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল নামে এক অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে কাজের সন্ধানে বের হলে একদল ‘পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা’ তাদের ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের পরিবারের কাছে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট তিন লাখ মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল অপহরণকারীরা।
এ বিষয়ে এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ছয় রোহিঙ্গাকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কয়েকটি জায়গা অভিযান চালাই। পরে শনিবার সন্ধ্যায় তাদের ছেড়ে দেয়। ফেরত আাসা অপহৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। প্রাথমিকভাবে জেনেছি, ছয় জনের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে।’
তিনি বলেন, ‘তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এ ঘটনায় স্থানীয় ওই অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত বাকিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’
মুক্ত হয়ে আসা রোহিঙ্গারা হলেন- টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুল ২১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা জাহিদ হোসেন (৩৩), একই ক্যাম্পের ইদ্রিস (২০), ফরোয়াজ (৩৯), জোহার (৩১), মোহাম্মদ নূর (৩৪) ও নুরুল হক (৩১)।
এ বিষয়ে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ জামাল পাশা বলেন, ‘অপহৃত ছয় রোহিঙ্গা ছাড়া পেয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে।’
এদিকে, গত ৮ জানুয়ারি টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাং এলাকায় ক্ষেত পাহারারত চার কৃষককে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে তারা ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ঘরে ফেরেন। এ ছাড়া গত ১৮ ডিসেম্বর টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা এলাকার একটি পাহাড়ের ভেতর খালে মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন আট ব্যক্তি। তারাও ছয় লাখ ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তারা ফেরেন।








