ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে ‘প্রমোদ ভ্রমণে’ এক হাসপাতালের ৭ চিকিৎসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৫:৩৪আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৫:৩৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি বা অনুমোদন না  নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে বান্দরবান গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সাত চিকিৎসক। এতে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ ঘটনায় রোগীসহ তাদের স্বজনরা ভ্রমণে থাকা চিকিৎসকদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। তবে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, ছুটিতে থাকা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরে এলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার অন্যতম প্রধান সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল। হাসপাতালটি জেলাবাসীর উন্নত চিকিৎসা সেবা নেওয়ার একমাত্র ভরসা স্থল। হাসপাতালটিতে জরুরি বিভাগসহ অন্তত ১৪টি বিভাগ রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে হাসপাতালটিতে তীব্র রোগীর চাপ থাকলেও আবাসিক চিকিৎসকসহ সাত চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন।

সাত চিকিৎসক হলেন- হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ফায়েজুর রহমান, গাইনি চিকিৎসক শরিফ মাসুমা ইসমত, ডা. মারিয়া পারভীন, ডা. আইরিন হক, ডা. ফাহমিদা ও ডা. খোকন।

এদিকে রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শহরের মৌড়াইল এলাকা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুস সাত্তার নামে এক রোগী বলেন, হাসপাতালের ডাক্তাররা কোনও ছুটি না নিয়েই ভ্রমণে যাবেন এটা ঠিক নয়। কারণ এখানে অনেক রোগী এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তারা হাসপাতালের রোগীর সেবা না দিয়ে ঘুরতে যাবে এটা কখনও কাম্য নয়। আমরা তাদের বিচার দাবি করছি।

দীপক চৌধুরী বাপ্পী নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, এই হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকলেও ডাক্তাররা এমনিতেই রোগী কম দেখেন। তার ওপর এখন বেশ কয়েকজন ডাক্তার ছুটি না নিয়ে ঘুরতে চলে গেছেন। তাদের এই বিষয়টি কাম্য নয়। আমরা চাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এদিকে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রানা নূরুস শামস জানান, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ডেঙ্গু মৌসুমে কেউ ছুটি কাটাতে পারবেন না। তবে তারা বান্দরবানে গেলে নিজ দায়িত্বে গেছেন। তাদের কেউ ছুটি নিয়ে যায়নি। 
তত্ত্বাবধায়ক আসার পর তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান এই চিকিৎসক কর্মকর্তা।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা অপর আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. সুমন ভূঞা জানান, সাত চিকিৎসক অনুপস্থিত আছেন। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থা কিছুটা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ভিন্ন ভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে ভ্রমণে থাকা আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফায়েজুর রহমান জানান, তিনি ছুটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে অবকাশ যাপনে আছেন। অন্য চিকিৎসকরাও ছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন।

জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলার ৩২ লাখ মানুষের এই প্রধান হাসপাতালটিতে ৬০ জন চিকিৎসক নিয়মিত থাকার বিধান রয়েছে।

/এফআর/
সম্পর্কিত
হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে হাসনাত আবদুল্লাহ, ৫ চিকিৎসককে শোকজ
ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার সরকারি চিকিৎসক
হামের প্রাদুর্ভাব: ঈদে ছুটি পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সরা
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান