গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীর মামলায় ড. ইউনূসের শাস্তি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
০২ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬:২২আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬:৪১

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে এক দশকের বেশি সময় ধরে নিয়ম ভঙ্গ, কর ফাঁকি, তার কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিল আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনুমোদিত সংস্থা থেকে তিন হাজার কোটি টাকা অপব্যবহার করার অভিযোগ আছে। ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ অনুসারে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি সরকার নিযুক্ত হওয়ার কথা ছিল। ১৯৯০ সালের সংশোধনী অনুসারে এমডি নিয়োগের দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড অব ডিরেক্টরস এ স্থানান্তরিত হয়। এই পরিচালক বোর্ড-এর চেয়ারম্যান ১৪ আগস্ট, ১৯৯০ সালে ড. ইউনুসকে এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য অনুরোধ করেন।’

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজী পুকুর লেনস্থ ওয়াইএনটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আদালত দণ্ডিত করেছে। এরপর আপিল করার শর্তে তাকে আবার জামিনে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা আছে এবং সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। এখানে সরকার কোনও পক্ষ নয়, মামলাও করেনি। মামলা করেছে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীরা। সেই মামলায় শাস্তি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ টেলিকমের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে যে, লাভের ৫ শতাংশ তার কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। এ যাবৎ কখনও তা দেওয়া হয়নি। এটি না দেওয়ায় শ্রম আইনের ৪, ৭, ৮, ১১৭ এবং ২৩৪ ধারার অধীনে মামলা দায়ের করেছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষ থেকে দুই শ্রমিক নেতাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাদের তিন কোটি করে ছয় কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। দুজনকে ঘুষ দেওয়ার পরও টাকা না পাওয়ায় সাধারণ শ্রমিকরা মামলা করেছেন। সুতরাং, এখানে স্পষ্টত একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং এই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কারণেই মামলা হয়েছে, শাস্তিও হয়েছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক শর্ত সাপেক্ষে ড. ইউনূসের নিয়োগে অনাপত্তি দেয়। শর্তগুলো হলো, ১. এমডির চাকরির শর্তাবলি ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৪-এর ৪ ধারার প্রবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। ২. পরিচালক বোর্ড অধ্যাদেশের ৩৬ ধারার অধীনে নিয়ম তৈরি করবে। যা সরকারি গেজেট প্রকাশের পর কার্যকর হবে। ৩. সরকারি চাকরির নিয়ম অনুসারে একজন এমডি ৬০ বছর বয়সের সীমা অতিক্রম করতে পারবেন না (কিন্তু ড. ইউনূসের বয়স যখন ৫৯ বছর, ১৯৯৯ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালক বোর্ড তার ৫২ তম সভায় আইন ভঙ্গ করে রেজুলেশনে তাকে পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত এমডি হিসাবে নিশ্চিত করে)। এটি গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের অনুচ্ছেদ ১৪-এর ৪ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অধিকন্তু, তার এই নিয়োগের অসৎ উদ্দেশ্য পরে প্রমাণিত হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২১ এবং ১২-এর ২ ধারা অনুসারে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডিকে একজন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে তার চাকরির শর্তাবলি লঙ্ঘন করেছেন। একজন পূর্ণ-সময়ের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজের জায়গায় তার ঘন ঘন অনুপস্থিতি ছিল এবং সেই অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন কখনও নেওয়া হয়নি। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তার পরিবারের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে বা মূলধন জোগান দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত কারণেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি হয়েছে।’

পৃথিবীতে বহু নোবেল লরিয়েটের বিরুদ্ধে দেশে দেশে মামলা হয়েছে। অনেকে শাস্তি ভোগ করেছেন, কারাগারেও ছিলেন উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এ ধরনের অনেক ঘটনা আছে। যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, পুরস্কারের অর্থ কে কত টাকা পাবেন, এ নিয়েও নোবেল লরিয়েট একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনও সুযোগ নাই। বাংলাদেশে আদালত স্বাধীন। স্বাধীনভাবেই কাজ করেছে।’

নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত দেশের একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক ড. ইউনূসের প্রতি সম্মান রেখে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যদিও নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে বহু প্রশ্ন আছে। গাজায় কবরে শান্তি স্থাপন করার জন্য কখন যে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়ে দেয়, সেটিও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপর বারাক ওবামাকে যখন নোবেল শান্তি পুরস্কার দিলো, তিনি অবাক হয়ে গেলেন। বললেন, আমাকে কেন দেওয়া হলো। মালালাকে ১৪ বছর বয়সে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কোন সময় যে ১০ বছরের কাউকে দিয়ে দেন, সেটি নিয়েও অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যা-ই হোক, তিনি একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক, আমি তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করি।’

ড. ইউনূসকে কখনও শহীদ মিনার কিংবা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায় না। তিনি কার প্রতিনিধিত্ব করেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি এককভাবে কারও নাম বলছি না। আমাদের দেশে কিছু লোক আছে, তারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা বিদেশিদের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা মিশনে মিশনে পার্টিতে যায়। আবার বিভিন্ন দেশের সংস্থা থেকে অর্থ পায় এবং ট্যুরে যায়। তারা তাদের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা যেটি বলে সেটিই করে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, আমরা তাদের বক্তব্যগুলো ভালো করে প্রচার করি। এটা না দিলে কিন্তু তাদের বাজার মূল্যটা কমে যেত। আমরাই তাদের বাজার মূল্যটা বাড়িয়ে দিই।’

/কেএইচটি/
সম্পর্কিত
প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস
‘তথ্যই সবচেয়ে বড় শক্তি’
শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জনমতের ভিত্তিতে আরও কঠোর আইন সম্ভব: তথ্যমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের