বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম অংশে আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম আব্দুল খালেক (৩০)। তিনি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ১নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা আনু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আব্দুল খালেক ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রেজু আমতলী বিওপি-সংলগ্ন ৪০ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি এলাকায় যান। এ সময় হঠাৎ একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
বিস্ফোরণে তার বাঁ পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পা মারাত্মকভাবে জখম হয়। সঙ্গে থাকা অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমার অংশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নস্থানে স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কিংবা অসাবধানতাবশত সীমান্তের কাছাকাছি গেলে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। নিহত ব্যক্তির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
প্রসঙ্গত, গত এক মাসে সীমান্ত এলাকায় একাধিক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যাদের ফসলি জমি, ফলের বাগান বা জুমচাষের জমি সীমান্তের কাছাকাছি, তারা এখন সেখানে যেতে ভয় পাচ্ছেন।









