বহুতল ভবনের সামনে হঠাৎ পুলিশের ভিড়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় ও উৎসুক মানুষ। ভেতরে তখন চলছে বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট-ভিসা যাচাই। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের খুলশীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি ভবনের আটতলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ৭০ বিদেশি নাগরিককে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৭০টি ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে ক্যাসিনোসদৃশ খেলা ও বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিরা অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্র।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে জালালাবাদ আবাসিক এলাকার এক ভবনের আটতলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিইউ) একটি দল ও থানা পুলিশ ওই ভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৭০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১৭০টি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটকরা অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, ওই ভবনে কেন অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। তাদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন এবং তারা কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, সেসব তথ্যও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচ জন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রামু থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকার পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই হোটেলে অভিযান চালানো হয়। পরে ছয় জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়। এরপর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় তাদের।
পুলিশ জানায়, চীন ও তাইওয়ানের কয়েক শ নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের দুটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আছে।

এক ভবন থেকে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, কী করছিলেন তারা







