মিয়ানমার থেকে প্রবেশের সময় কক্সবাজারের টেকনাফে ১৪ লাখ ইয়াবাসহ দুই জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার হ্নীলা সীমান্তের জেলেপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবার এ বড় চালান জব্দ করা হয়। বিজিবির দাবি, এটি তাদের আটক করা এ পর্যন্ত অন্যতম ইয়াবার বড় চালান।
আটক দুজন হলেন- টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল এলাকার জহির ও মো. হোসাইন। বিকালে টেকনাফ সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। এ সময় কক্সবাজার রামু সেক্টরের বিজিবির কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার উল-আলম ও ক্যাপ্টেন মাহরাফ জামান উপস্থিত ছিলেন।
মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশের খবর পেয়ে বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সীমান্তে অবস্থান নেয় বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল। পরে হ্নীলা সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একটি নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় নৌকাটি তল্লাশি করে ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ করা হয়। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪২ কোটি টাকা।’
সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বিজিবির অধিনায়ক বলেন, ‘জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।’
রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার উল-আলম বলেন, ‘চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে অত্যাধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তে নজরদারি চালানো হচ্ছে। চোরাকারবারিরা নানা কৌশলে সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সময়ে চোরাকারবারিদের আটক করে থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পুলিশের এখতিয়ার।’
বিজিবি সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ইয়াবা এবং ২৪৩ জন আসামিকে আটক করেছে। সীমান্তে মাদকসহ সব ধরনের অপরাধী শনাক্ত ও আটকে বিজিবির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।







