গাজীপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ

গাজীপুর প্রতিনিধি
২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০২:০০আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০২:০৬

মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত এক ছাত্র গাজীপুর শাহীন ক্যাডেট একাডেমির মাওনা শাখায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এই ঘটনা ঘটেছে। তারা সবাই চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আব্দুল মালেক। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার দারাগ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। তিনি এই মাসে ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতায় যোগ দেন।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিদ বিন ওসমান ও অপূর্বের দাবি, বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ঢুকে সবাইকে জাতীয় সংগীতের শিট সরবরাহ করেন। শিট বিতরণের পর ওই শিক্ষক কক্ষের বাইরে চলে যান। এসময় শিট দেখে সবাই সমস্বরে জাতীয় সংগীত গাইতে শুরু করে। পরে হঠাৎ করে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ঢুকে টেবিলে স্কেল দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেন। এতে আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা চুপ হয়ে যায়। এ সময় একে একে ১৭ শিক্ষার্থীকে স্কেল দিয়ে পেটায় ওই শিক্ষক। রবিবার ওই শ্রেণিতে ২০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ওই সময় বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পাঠদান চলছিল।

অভিভাবক ওসমান গণি বলেন, ‘শিক্ষকের পিটুনিতে তার ছেলে লাবিদের মাথা, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছুক্ষণ বরফ লাগাতে হয়েছে। ভীষণ ভয় পেয়ে গেছে তার ছেলে। পাঠ চলাকালীন অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাসের বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করছিলেন।’

অভিভাবক আমান উল্লাহ জানান, তার ছেলে অপূর্বের মাথায় আঘাত করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীদের পেটানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরাও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত চিৎকার চেঁচামেচি করছিল। বার বার থামতে বলা হলেও থামছিল না। পরে মনের অজান্তে, রাগে ক্ষোভে বিরক্ত হয়ে স্কেল দিয়ে কয়েকজনকে আঘাত করেছি। জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য মারধর করা হয়নি। তিনি নিজেও ফেসবুক ব্যবহার করেননি।’ তার দাবি, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অনেকটা অনিয়ন্ত্রিত। তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বেশ কয়েকবার শ্রেণি পরিবর্তন করে তাকে অন্য শ্রেণির পাঠদানে দেওয়ার জন্য আবেদনও করেছিলেন।

গাজীপুর শাহীন ক্যাডেট একাডেমির আঞ্চলিক পরিচালক আনিছুর রহমান জানান, ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষককেও পাঠদানে পাঠানো হয়। চতুর্থ শ্রেণিতে মোট চারটি শাখা রয়েছে। অপেক্ষাকৃত মেধাবীদের শ্রেণিতেই অভিযুক্ত শিক্ষককে পাঠদানে পাঠানো হয়েছে। এখানে শ্রেণিকক্ষ পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মারধর করা সুস্পষ্ট আইনের লঙ্ঘন। মারধরের খবর সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরই ঘটনাস্থলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী