গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার লোহারংক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ঘটনার দিন সহকারী শিক্ষক ফিরোজা খানম দেরি করে বিদ্যালয়ে আসেন। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপটি রানী পাল দেরিতে আসার কারণ জানতে চান। এতে তিনি প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালমন্দ করেন।
লিপটি রানী পাল বলেন, ‘ফিরোজা খানম প্রায়ই দেরি করে বিদ্যালয়ে আসেন। বিদ্যালয়ের কাছে তার বাড়ি হওয়ার কারণে দুই একটি ক্লাস নিয়েই তিনি বাড়ি চলে যান। এ বিষয়ে কোনও অভিভাবক কিছু বললে তিনি তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আমি কখনও কিছু বললে তিনি আমাকে মারতে আসেন। বিষয়টি বিভিন্ন সময় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। কিন্তু আমি এর প্রতিকার পাইনি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, ‘ফিরোজা খানম বিদ্যালয়ে সময় মতো আসেন না। ঠিকভাবে ক্লাসও নেন না। আমরা কেউ কিছু বললে খারাপ ব্যবহার করেন। আমাদের সন্তানরা এ ধরনের শিক্ষক থেকে কি শিখবে? আমরা সন্তাদের নিয়ে শঙ্কিত।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক ফিরোজা খানম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক লিপটি রানী পাল মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে হয়রানি করছেন।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুছা বিশ্বাস বলেন, ‘ফিরোজা খানমকে আমরা অনেকবার সংশোধন হতে বলেছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শুনছেন না। বিষয়টি আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি।’
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার বিদ্যা রতন বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে ফিরোজা খানম দোষী হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







