X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিলো হেফাজত (ভিডিও)

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ০০:৫৭

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি হোটেলে নারীসহ আটক হেফাজত নেতা মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ইসলামপন্থী সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। তবে পুলিশ দাবি করেছে, তারা মামুনুলকে পাহারা দেওয়ার পর হেফাজতের নেতাদের হাতে তুলে দিয়েছে।

শনিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হেফাজতের কর্মীরা ওই রিসোর্টে হামলা চালায় এবং মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিজেদের কাছে নিয়ে যায়। এসময় মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারীকেও নিয়ে গেছে তারা। তবে এসময় ওই হোটেল এলাকায় বেশ কিছু ভাঙচুর করেছে হেফাজতের কর্মীরা।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম মোশাররফ হোসেন জানান, হেফাজতের ঢাকা মহানগরের আমির এবং কেন্দ্রীয় হোজতে ইসলামের যুগ্ম সম্পাদক মামুনুল হক তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী আমেনা তাইয়্যেবাকে সাথে নিয়ে দুপুর দুইটা ৪০ মিনিটে সোনারগাঁ রয়্যাল রিসোর্টে আসেন। তারা ওই হোটেলের ৫ তলার একটি কক্ষে ওঠেন। তবে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জেনে যায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। কয়েকদিন আগে হেফাজতের এই নেতাসহ অন্যদের রুদ্রমূর্তি ধারণের ঘটনার পর সত্যিই তিনি কী কারণে সেখানে এসেছেন এবং তার সঙ্গে থাকা নারীর পরিচয় কী তা জানতে ওই রিসোর্টে আসে পুলিশ। ওই কক্ষে তাদের পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেছেন, এসময়  মামুনুল দাবি করেন, তার সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তার নাম আমেনা তাইয়্যেবা। তাকে নিয়ে সোনারগাঁওয়ের কারুশিল্প এলাকা ঘুরে অবকাশ যাপনের জন্য এই রিসোর্টে এসেছেন। তবে গত কয়েক মাস ধরে নানা ঘটনায় বিতর্কিত এই নেতাকে নারীসহ আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করার খবরে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্থানীয় জনগণ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও জেনে যায়। তারাও সেখানে যান। সেখানে মামুনুল হকের সঙ্গে পুলিশের কথোপকথন তাদের অনেকেই ফেসবুকে লাইভ করায় বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে ছড়িয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, মাওলানা মামুনুলকে আটকের খবর পেয়ে বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে হেফাজতের কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে ওই রিসোর্টে হামলা চালায়। তারা গেট ভাঙচুর করে। এরপর হেফাজতের কর্মীরা ওই হোটেলের প্রতিটি তলায় সবগুলো কক্ষ ভাঙচুর করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেখান থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

তবে পুলিশ দাবি করেছে, তারা নিজেরাই হেফাজতের কর্মীদের হাতে তাদের নেতাকে তুলে দিয়েছে। এছাড়াও তাদের আরেকটি দলের কাছে মাওলানা মামুনুল হকের স্ত্রী আমেনা তাইয়েব্যাকে তুলে দিয়েছে।

তবে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেফাজতের নেতা-কর্মীরা যখন দল বেঁধে রিসোর্টটিতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে তখন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।

জানা গেছে, রাত আটটার দিকে হেফাজতের নেতারা মামুনুল হককে ওই রিসোর্ট থেকে এক কিলোমিটার দূরে চৌরাস্তা হাবিবপুর ঈদগার পাশের একটি মসজিদে নিয়ে যায়। সেখানে বসে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্যও রাখেন মামুনুল হক।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ওই রিসোর্টের নিচতলার গার্ডরুম, অভ্যর্থনা কক্ষ, সুইমিংপুল ভাঙচুরসহ দোতলা ও তৃতীয় তলার আবাসিক কক্ষগুলোর সব কাচ ভেঙে দিয়েছে হেফাজতের কর্মীরা। 

রয়্যাল রিসোর্টে আবারও হামলা

এদিকে রাত সাড়ে আটটার দিকে হেফাজতের কর্মীরা জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে রয়্যাল রিসোর্টটির দিকে আবারও এগিয়ে আসে। এসময় হেফাজতের কর্মীরা পুলিশ ও র‌্যাবকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট, ফাঁকা গুলি, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। হেফাজতের নেতাকর্মীরা রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্ট আগুন ধরিয়ে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চারদিক থেকে ইটপাটকেল ছোড়ে। এসময় তাদের ছোড়া ইট পাটকেলের আঘাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর হয়। এ অবস্থা থেমে থেমে প্রায় ঘণ্টাখানেক চলতে থাকে। এ সময় আশেপাশের বাড়িঘরের মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দুইশ থেকে আড়াইশ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে হেফাজতের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে রয়্যাল রিসোর্ট নিয়ন্ত্রণে নেয়।

হোটেলে থাকা বিদেশিরা ভীষণ আতঙ্কিত

রয়্যাল রিসোর্টের দক্ষিণ দিকের ভবনে এদিন বেশ কিছু বিদেশি অবস্থান করছিলেন। মামুনুল হককে নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি তারা বুঝতে না পারলেও হঠাৎ সেখানে প্রথমে পুলিশ ও পরে দাড়ি টুপি পড়া মারমুখী হেফাজত কর্মীদের দেখে প্রচণ্ড আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক হোটেলকর্মী জানান, বিদেশি অতিথিরা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায়। হেফাজতের কর্মীরা যখন প্রথমবার হামলা চালায় তখন তারা বিভিন্ন কক্ষ থেকে বের হয়ে ভবনের ওপরের তলার দিকে আশ্রয় নিতে থাকে। এরপর হেফাজতের উগ্র নেতা-কর্মীরা হোটলের নিচের দিকটা ভাঙচুর করে মামুনুল হককে নিয়ে চলে গেলে তারা অনেকে বের হয়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরমধ্যে আবারও আরেকদল হেফাজতের কর্মী সেখানে এলে তারা আবারও ভয় পেয়ে ওপরের কক্ষগুলোর দিকে ছুটতে থাকেন। এরপর হেফাজত আবারও পাথর ছুড়লে আর পুলিশ-র‌্যাব গুলি করলে বিদেশিরা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান। তারা নিজেদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্কে কথা বলতে থাকেন। পরে তাদের অনেকে রাতেই হোটেল ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

পথে পথে আরও ভাঙচুর

এদিকে, মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে মোগরা পাড়া চৌরাস্তায় অবস্থিত সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগ রফিকুল ইসলাম নান্নুর শ্বশুরবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনির বাসভবন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে অতি উৎসাহী হেফাজতের কর্মীরা।

আরও পড়ুন:

নারীসহ রিসোর্টে গিয়ে জনগণের তোপের মুখে হেফাজত নেতা মামুনুল

কাকে নিয়ে রিসোর্টে গিয়েছিলেন মামুনুল হক?

যা বললেন মামুনুল হক

তুমি বইলো আমি সব জানি: ফোনালাপে স্ত্রীকে মামুনুল

ফোনালাপে স্ত্রীকে যা শিখিয়ে দিয়েছিলেন মামুনুল হক

/টিএন/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বিচারের জন্য পি কে হালদারকে বাংলাদেশ আগে চাইবে: আইনমন্ত্রী
বিচারের জন্য পি কে হালদারকে বাংলাদেশ আগে চাইবে: আইনমন্ত্রী
খোলা বাজারে প্রতি ডলার একশ’ টাকা ছাড়ালো
খোলা বাজারে প্রতি ডলার একশ’ টাকা ছাড়ালো
১০ মাসে হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ২৮ কোটি টাকা
১০ মাসে হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ২৮ কোটি টাকা
কিছু পত্রিকা একদিন ভালো লিখলে ৭ দিন লেখে খারাপ: প্রধানমন্ত্রী
কিছু পত্রিকা একদিন ভালো লিখলে ৭ দিন লেখে খারাপ: প্রধানমন্ত্রী
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
দুপুরে আ.লীগ থেকে পদত্যাগ করে সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী
দুপুরে আ.লীগ থেকে পদত্যাগ করে সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী
চলন্ত বাসে ডাকাতির চেষ্টা, গণপিটুনিতে আহত যুবকের মৃত্যু
চলন্ত বাসে ডাকাতির চেষ্টা, গণপিটুনিতে আহত যুবকের মৃত্যু
রেল লাইনে লোহার অ্যাঙ্গেল পড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ
রেল লাইনে লোহার অ্যাঙ্গেল পড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ
আদালতে হাজির ছিলেন কৃষক, পুলিশের প্রতিবেদনে অংশ নিয়েছেন সংঘর্ষে 
আদালতে হাজির ছিলেন কৃষক, পুলিশের প্রতিবেদনে অংশ নিয়েছেন সংঘর্ষে 
বছর না যেতেই ফাটল, ভেঙে ফেলা হলো উপহারের ৩টি ঘর
বছর না যেতেই ফাটল, ভেঙে ফেলা হলো উপহারের ৩টি ঘর