হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ূন কবিরের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ বিষয়ে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হেফাজতের সহিংসতার ঘটনায় করা দুই মামলায় তার সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে সহিংসতার সঙ্গে রনি জড়িত ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’
এর আগে, ২১ আগস্ট (শনিবার) রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা থেকে মশিউর রহমান রনিকে আটক করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পরদিন সকালে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের কথা জানান ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘মশিউর রহমান রনির বিরুদ্ধে একাধিক থানায় মামলা রয়েছে। ঢাকা থেকে তাকে আটকের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই থানায় তাকে হেফাজতের সহিংসতার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে’।
গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের দিন সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে মৌচাক পর্যন্ত গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুরসহ সরকারি কাজে বাধা ও নাশকতার অভিযোগে করা তিন মামলায় মশিউর রহমান রনিকে গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার (২২ আগস্ট) আদালতে তোলা হয়েছিল। ওইদিন দুই মামলার শুনানি হয়নি। বাকি মামলার শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে আদালত নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর এলাকায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের বাড়িতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছিল ছাত্রদল। এতে সভাপতির বক্তব্যে মশিউর রহমান রনি বলেছিলেন, ‘আজকে (মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট) ঢাকার কর্মসূচিতে (জিয়া উদ্যানে) পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা করেছে। আমি জানি না, পুলিশ কাদের লোক। তারা কি সাধারণ জনগণের নাকি শেখ হাসিনার? আমি বলে দিতে চাই, যদি শেখ হাসিনার হয়ে থাকেন, আপনারা যে পোশাক পরিধান করে থাকেন সেটা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা। যদি ছাত্রদল এবং তারেক রহমান চিন্তা করে পুলিশের সেই পোশাক খুলে ফেলবে। সেটা আমাদের ওয়ান-টু ব্যাপার মাত্র। ছাত্রদল পুলিশকে প্রতিহত করবে।’ এর আগেও অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এ ছাত্রদল নেতা।








