ভাঙন ঝুঁকিতে চরভদ্রাসনের বিদ্যালয় ও ক্লিনিক

ফরিদপুর প্রতিনিধি
৩০ আগস্ট ২০২১, ০৮:৪৫আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২১, ০৮:৪৫

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালিয়াডাঙ্গী কমিউনিটি ক্লিনিক এবং চরহরিরামপুর ইউনিয়নের সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এলাকাবাসী বলছে, গত ২৭ আগস্ট দুপুর থেকে দুই দিন ধরে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে কাঁচা রাস্তাসহ প্রায় ৪০ শতাংশ জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মা নদী থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর দূরত্ব মাত্র ১০ মিটার। যেকোনও সময় তিনটি প্রতিষ্ঠানসহ পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

চরভদ্রাসন প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংবাদিক মনির হোসেন পিন্টু জানান, সরকারি তিনটি প্রতিষ্ঠান বিলীনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। পদ্মার ভাঙন থেকে প্রতিষ্ঠান তিনটি রক্ষা করতে হলে একমাত্র উপায় দ্রুত অর্থাৎ এক থেক দুই দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। 

বালিয়াডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান জানান, ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ওই বছরের বন্যার পর বিদ্যালয়ের ভবনটি প্রথম দফায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে বর্তমান স্থানে সরিয়ে এনে দ্বিতলবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেটাও এখন ভাঙনের মুখে।

সবুল্লাহ শিকদার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল্লাহ জানান, ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত। ১৯৯৭ সালে প্রথম দফায় ভাঙনের মুখে পড়ে বিদ্যালয়টি। নতুন করে বর্তমান স্থানে চারচালা একটি টিনের ঘরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলে। কিন্তু তাও এখন বড় ঝুঁকির মধ্যে।

তিনি আরও বলেন, সাত দিন আগে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। পদক্ষেপ নিতে দেরি হলে পদ্মার পেটে চলে যাবে বিদ্যালয়টি।

বালিয়াডাঙ্গী কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার খালেদা আক্তার জানান, চার বছর আগে ক্লিনিকের নতুন এক তলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ক্লিনিকটি এখন ভাঙনের মুখোমুখি। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এটি বিলীন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহামুদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি ফরিদপুর পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বেড়ে এখন বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন রোধে কাজ চলছে। বালিয়াডাঙ্গী, ফাজেলখারডাঙ্গী ও সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গী গ্রামের ভাঙন রোধে অস্থায়ীভাবে ডাম্পিংয়ের জন্য প্রায় ১৬ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ফাজেলখারডাঙ্গীতে পাঁচ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। বালিয়াডাঙ্গীতেও শিগগিরিই বালুর বস্তা ফেলা হবে। এখানে পাঁচ হাজার বালুর বস্তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অধিক ঝুঁকিপুর্ণ বিবেচনা করে সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গী গ্রামেও দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

/এসএইচ/
সম্পর্কিত
ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতুতে ৪৮ ঘণ্টায় টোল আদায় প্রায় ১০ কোটি টাকা
২৩ গরুসহ পদ্মা নদীতে ভেসে যাওয়া ব্যাপারী এখনও উদ্ধার হয়নি
পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানালেন মাহদী আমিন 
সর্বশেষ খবর
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান