রাজবাড়ীর টিকা কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়, অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:৪৪আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:৪৪

সারাদেশের মতো রাজবাড়ীতেও করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১৩৭টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সকাল থেকে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে টিকা নিতে আসা অধিকাংশের মুখে মাস্ক ছিল না। এমনকি সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা, বরং ধাক্কাধাক্কি করে টিকা নিয়েছে অধিকাংশ মানুষ।

সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কয়েকটি টিকা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদ, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, দৌলতদিয়া ঘাট কমিউনিটি ক্লিনিকসহ কয়েকটি টিকা কেন্দ্রে গায়ে গা লাগিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে মানুষজন। হঠাৎ কেউ একজন লাইনের মাঝে ঢুকে পড়লে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। বিকাল পর্যন্ত এভাবেই চলেছে টিকাদান কার্যক্রম।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ৪২টি ইউনিয়ন ও তিন পৌরসভার ১৩৭টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলেছে। প্রতি ইউনিয়নে তিনটি করে কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলেছে। ইউনিয়নভিত্তিক প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০০ টিকা দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ী পৌরসভায় পাঁচটি, পাংশা পৌরসভায় তিনটি ও গোয়ালন্দ পৌরসভায় তিনটি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা, বরং ধাক্কাধাক্কি করে টিকা নিয়েছে অধিকাংশ মানুষ

টিকা নিতে আসা রাজবাড়ী পৌরসভার বাসিন্দা ফাতেমা নুর (৪০) বলেন, টিকা নিতে এসে দেখি প্রচুর ভিড়। এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। টিকা নিতে পারলে দুশ্চিন্তামুক্ত হবো। কষ্ট হলেও আজ টিকা নিয়েই বাড়ি ফিরবো।

পাংশা পৌরসভার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, এতদিন কাগজপত্রের ঝামেলার কথা শুনে টিকা নিইনি। দুদিন আগে জানতে পারলাম টিকা নিতে কোনও ঝামেলা নেই। শুধু আইডি কার্ড হলেই টিকা দেবে। তাই টিকা নিতে এসেছি। টিকা নিয়েছি। কোনও সমস্যা হয়নি আমার। এত সহজে টিকা পাওয়া যায় জানলে আরও আগেই নিতাম।

জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা টিকাদান কার্যক্রম তদারকি করছেন। উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলজার হোসেন মৃধা বলেন, আমি সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত টিকা কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি। আমার মনে হচ্ছে, আজ টিকাদানের মধ্য দিয়ে জেলার শতভাগ মানুষের টিকা নিশ্চিত হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন বলেন, একদিনে এক কোটি টিকাদান কার্যক্রম সরকারের একটি সফল পরিকল্পনা। সবার সহযোগিতায় দিনশেষে আশা করছি, আমরা সফল কর্মসূচি শেষ করতে পারবো। কত জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে রাতে হিসাব-নিকাশ করে নিশ্চিত করে বলা যাবে।

/এএম/
সম্পর্কিত
হামে পাঁচ শতাধিক শিশুর মৃত্যু কি অবধারিত ছিল?
‘টিকাদানের ঘাটতি দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে’
খুলনা মেডিক্যালে হাম ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর ৯০ শতাংশই টিকা নেয়নি
সর্বশেষ খবর
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান