মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভায় কাউন্সিলরের ছেলে সম্রাট ঝলককে (২২) ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় প্রধান আসামিসহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) র্যাব-১১ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে। বিকালে নারায়ণগঞ্জের আদমজীনগরে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক হাসান শাহরিয়ার এই তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মুন্সিগঞ্জের নৈদিঘীর পাথর গ্রামের মো. জিল্লু (৪২) এবং তিলাদী (শরিয়ত নগর) এলাকার মোশারফ গোয়ালের ছেলে সুমন গোয়াল (৪০)।
মামলার বরাত দিয়ে র্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক হাসান শাহরিয়ার জানান, মিরকাদিম লঞ্চঘাটের ইজারা ও আধিপত্য নিয়ে জিল্লুর গ্রুপের সঙ্গে ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. লিটনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ১৩ এপ্রিল মিরকাদিম লঞ্চঘাট এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে কাউন্সিলর লিটনের ছেলে ঝলক গুরুতর আহত হন।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে কাউন্সিলরপুত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ
স্থানীয়রা উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার একদিন পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে জেলা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিদের মুন্সীগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
কাউন্সিলর লিটন বলেন, ‘মেয়রের ছেলে মানিক কিছু দিন আগে ঘাটের মার্জিন ডাক আনে। পরে কৃষক-শ্রমিকদের কাছে চাঁদা চাওয়ায় তারা স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে আমাকে জানায়। আমি বিষয়টি মেয়রকে জানালে তিনি তার ছেলের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করে নিতে বলেন। পরে ঘাটে গিয়ে আমি মানিককে ফোন দিয়ে কথা বলতে ডাকি। তবে গুন্ডার বহর পাঠিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে সে। পরে জিল্লুর, মাসুদ, জালাল, সুমন, নাসির, মানিক চোখের সামনে আমার ছেলেকে মেরে ফেলে।’
পৌর মেয়র আব্দুস সালামের দাবি, ‘আমার ছেলে ঘটনাস্থলে ছিল না। রাজনৈতিক কারণে আমার ছেলের নাম জড়ানো হচ্ছে। তারপরও সে যদি ঘটনায় জড়িত থাকে ও তা প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনে তার যা বিচার হবে তা মেনে নেবো। কিন্তু, অন্যায়ভাবে আমার ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।’









