ঢাকার ধামরাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি নির্বাচনি কার্যালয়ে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। তবে ভবন মালিক ও পুলিশ বলছে, সেখানে কোনও লুটপাট বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। অনুমতি ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের সামনে রাখা চেয়ার, টেবিল ও ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মাত্র।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এনসিপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদের অভিযোগ, নির্বাচনি কার্যক্রম শুরুর আগেই একটি গোষ্ঠী তাদের কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
এনসিপির দাবি, বুধবার (২১ জানুয়ারি) কালামপুর বাজার এলাকায় একটি ভবনের একটি কক্ষ নির্বাচনি ক্যাম্পের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানে ব্যানার টাঙানো হয় এবং ১৫-২০টি চেয়ার ও কয়েকটি টেবিল দিয়ে কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে নেতাকর্মীরা এসে দেখেন, কার্যালয়ের সব মালামাল নেই।
সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সভায় নাবিলা তাসনিদ অভিযোগ করেন, এনসিপির প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এনসিপি প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ বলেন, গতকাল রাত পর্যন্ত আমাদের অফিসে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। আজ সকালে এসে দেখি-সব ব্যানার, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, অফিস সম্পূর্ণ খালি। পদে পদে আমাদের নির্বাচনি প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। আমি ধামরাইয়ের মানুষকে বলবো, এই অপশক্তির জবাব আপনারা ভোটের মাঠে দেবেন।
তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন ভবন মালিক মোহাম্মদ শামসুর রহমান। তিনি বলেন, ভবনটি এখনও নির্মাণাধীন এবং এনসিপিকে কোনও অংশ ভাড়া দেওয়া হয়নি।
মোহাম্মদ শামসুর রহমান বলেন, আমি এই বিল্ডিংটার কাজ এখনও সম্পন্ন করিনি। আমার অনুমতি ছাড়া এখানে এনসিপির ব্যানার লাগানো হয়েছিল। কে লাগাইছে, কেউ বলতে পারে নাই। তাই আমি ব্যানারগুলো খুলে সুন্দর করে রেখে দিছি। চেয়ার টেবিল এখনও আমার হেফাজতেই আছে। লুটপাট বা ভাঙচুরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, ভবন ব্যবহারের বিষয়ে কেউ আমারর সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা বা অনুমতি নেননি।
ভবনটি মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছে কি না প্রশ্নে এনসিপি নেতৃত্বও কোনও জবাব দেননি।
এদিকে কার্যালয় পরিদর্শনের পর ধামরাই থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে কোনও দুষ্কৃতকারী বা অপ্রীতিকর ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বলছে, ভবন মালিকের অজান্তে রাখা মালামাল তিনি নিজেই সরিয়ে রেখেছেন।
ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা আগে খবর পাওয়া যায় ধামরাই থানার কালামপুরে এনসিপির কার্যালয়ের কিছু মালামাল কে বা কারা সরিয়ে ফেলে। খবরের ভিত্তিতে আমি ও আমার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসি। এসে জানতে পারি, এই ভবনের নিচতলায় দোকানকে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। ভবনের মালিক উনি এই বিষয়ে অবগত ছিলেন না যে এখানে এনসিপি কার্যালয় হবে। তিনি সরল বিশ্বাসে দোকানের মালামাল সরিয়ে পাশের একটি দোকানে রাখেন। এখন তিনি জানিয়েছেন, এনসিপিকে কার্যালয় করতে দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি নেই জানিয়েছেন। তাতে বোঝা যায়, অন্য কেউ এই মালামাল সরিয়ে রাখেনি। দোকান মালিক বুঝতে না পেরে, সরিয়ে রাখেন। এখানে অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটেনি।









