নরসিংদীতে গ্যারেজের ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে শহরের সাহেপ্রতাব এলাকার ওই গ্যারেজ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের পরিবারসহ অনেকেরই ধারণা, তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে, এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তা বের করতে পারেনি পুলিশ। কাউকে গ্রেফতার কিংবা আটক করা যায়নি এখনও পর্যন্ত।
সবশেষ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে নরসিংদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সামিউল হক জানান, এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হলেও, হত্যার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা দোকানে আগুন দিয়েছে কি না তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। মূল ঘটনা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
নিহত চঞ্চল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের খোকন চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে। চঞ্চল ৭ বছর ধরে ওই গ্যারেজে ইঞ্জিন মেকানিকের কাজ করতেন। এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিক রুবেল মিয়া ঘটনার পরদিন বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন। শনিবার সন্ধ্যায় লাশ কুমিল্লায় নেওয়া হয় এবং রবিবার দুপুরে চঞ্চলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় নিজ গ্রামেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই গ্যারেজে কাজ করছিলেন চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক। কাজ শেষে প্রতি রাতে এখানেই ঘুমাতেন তিনি। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার দিবাগত রাতেও গ্যারেজে ঘুমিয়েছিলেন চঞ্চল। গভীর রাতে গ্যারেজে আগুন লাগে। মুহূর্তেই তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় চঞ্চলের পোড়া লাশ পাওয়া যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা প্রথমে ধারণা করেছিলেন শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছিল। পরে সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে গ্যারেজের সামনে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা গেছে। তবে ওই ব্যক্তির দেওয়া আগুন থেকেই গ্যারেজে আগুনের সূত্রপাত কি না, সেটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।
গ্যারেজের পাশের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বলে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন লোক গ্যারেজের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের একজন আশপাশ থেকে ‘কিছু’ সংগ্রহ করে আনেন। পরে সেগুলো দিয়ে গ্যারেজের শাটারে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই লোকটি ঘটনাস্থলে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করেন। আগুন যখন পুরো গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তিনি সটকে পড়েন।
চঞ্চলের কাকা দূর্যোধন ভৌমিক বলেন, নরসিংদীতে কখনও তার কোনও সমস্যার কথা শুনিনি। আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা রাতেই সেখানে ছুটে যাই। আগুন নেভার পর তার লাশ পড়ে থাকতে দেখি। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
চঞ্চলের মা ববিতা ভৌমিক বলেন, আমার ছেলেরে আগুন দিয়া মাইরা ফালাইছে। এহন সংসার চালাইব কে?
নরসিংদী মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন বলেন, অপরাধী শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।









