শেখ হাসিনা সরকারের প্রবণতা এই সরকারেও দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
এ ছাড়া সরকারি দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, ‘বিগত শেখ হাসিনার আমলে আমরা দেখেছিলাম কীভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ সবকিছু দলীয়করণ করা হয়েছিল। এই সরকারের একমাসও হয়নি সেই প্রবণতা শুরু থেকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি।’
ফরিদপুর বিভাগীয় জাতীয় নাগরিক পার্টির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইফতারের পূর্বে আলোচনা সভায় নাহিদ ইসলাম বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অন্যথায় এর বিচ্যুতি যদি ঘটে তাহলে এগারো দলকেও, জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও চিন্তা করতে হবে; আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বাধ্য থাকবো।’
সরকারি দল একটি শপথ নিয়ে সবার আগে জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেঈমানি করেছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে বহুল আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন হয়েছে কিন্তু সেই নির্বাচনকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। জুলাই সনদের আদেশ অনুযায়ী আমরা শপথ নিয়েছি। যেখানে সরকারি দল একটি শপথ নিয়ে সবার আগে জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেঈমানি করেছে। তারা দুটি শপথ না নিয়ে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছে, জুলাই সনদের আদেশ যেটি হয়েছে, গণভোট হয়েছে যেখানে জনগণ ব্যাপকভাবে হ্যাঁ-এর পক্ষে তথা সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই গণভোটের বৈধতা নিয়ে তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ ও গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাদের সরকার দলীয় আইনজীবীরা আদালতে নিয়ে বৈধতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, আদালতের ওপরে চাপ প্রয়োগ করছে।’
এ ছাড়া মিডিয়ার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে টার্গেট ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে নানা প্রক্রিয়া, নানা পাঁয়তারায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন মিডিয়া নানা পরিকল্পনা করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে টার্গেট করে যাচ্ছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এবং এই নির্বাচনের পর থেকে সরকারের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে এবং গ্রিন সিগন্যালে তারা ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে; বিভিন্ন মিথ্যা ও অপতথ্য তারা প্রচার করছে। আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের কোনও ক্ষমা নেই, ফ্যাসিস্টদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবে। শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে যারা খুন করেছে তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব ইতিহাসের অংশ; মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে সেই ফ্যাসিস্ট দোসররা গত ১৭ বছর শেখ মুজিবের নামে, ৭ই মার্চের নামে তাদের সব অপকর্ম, লুণ্ঠন, গণহত্যা, গুম-খুন সবই বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করে গিয়েছে। এখনও আমরা একই প্রচেষ্টা দেখছি, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিব ও ৭ মার্চের নামে ফ্যাসিবাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার একটা বৈধতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনাদের হুঁশিয়ারি করে দিতে চাই- এই ধরনের চেষ্টায় কোনও লাভ হবে না।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখপাত্র সারজিস আলম, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রার্থী ও দলটির শূরা সদস্য আব্দুত তাওয়াব, জেলা আমির মাওলানা বদরুদ্দীনসহ অনেকে।







