রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে তরমুজবোঝাই একটি ট্রাক। বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে ঘটনাটি ঘটে। এতে চাককসহ তিন জন প্রাণে বেঁচে গেছেন।
ট্রাকের চালক মো. মোখলেস হাওলাদার জানান, পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে তিনি এবং তরমুজের দুজন মালিক গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন। দৌলতদিয়ায় আসার পর ৭ নম্বর ফেরিঘাটের ঢালু বাইপাস সড়ক দিয়ে ফেরিতে উঠতে গিয়ে ট্রাকের হাইড্রোলিক ব্রেকের পাইপ ফেটে যায়। এতে ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ভাগ্যক্রমে পন্টুনের বাইরের দিকের উঁচু অংশের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক্সেল ভেঙে আটকে যায় ট্রাকটি। এতে নদীতে পড়া থেকে রক্ষা পায় তরমুজবোঝাই গাড়িটি। সেইসঙ্গে প্রাণে রক্ষা পান তারা তিন জন।
তরমুজের মালিক মো. ফয়সাল বলেন, ‘নিজেদের ক্ষেতের ১ হাজার ৭০০ পিস তরমুজ ৩৫ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া করে ভাতিজা আরিফকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরে যাচ্ছিলাম। ফেরিঘাটে এসে দুর্ঘটনার শিকার হই। সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া তরমুজগুলোর ক্ষতি হয়নি। আমরা তিন জন প্রাণে বেঁচে গেছি। ট্রাকটি উদ্ধারের রেকার ভাড়া ৪ হাজার ৮০০, আলাদা ট্রাক ভাড়া আরও ১০ হাজার ৫০০ এবং শ্রমিক খরচ ৪ হাজারসহ ১৯ হাজার ৩০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। তবে ট্রাকটির ইঞ্জিন দুর্বল ছিল। এজন্য দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
৭ নম্বর ফেরিঘাটে কর্তব্যরত বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনাল সহকারী (টিএ) কাজী নবীন বলেন, ‘ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ফেরিতে যানবাহন উঠানামায় কোনও সমস্যা হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি আমাদের নিজস্ব রেকার দিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ট্রাকটি থেকে তরমুজ নামানোর পর রেকার দিয়ে পন্টুনের ওপর থেকে সরানো হবে। এক্ষেত্রে তাদের রেকার ভাড়া প্রতি ঘণ্টার জন্য ৪ হাজার ৮০০ টাকা হারে দিতে হবে।’








