জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে যাচাই-বাছাই করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে কারাগার থেকে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চলে গেছেন তিনি।’
এর আগে দুপুরে জুলাই আন্দোলনের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা এক মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন।
গত মঙ্গলবার এই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ওই দিন ভোরে তাকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় মামলায় পুলিশের প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন।’
ডিবি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিল। এ সময় আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করে। এতে আন্দোলনকারী মো. আশরাফুল ফাহিমের বাঁ চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। তিনি গত বছরের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় মামলা করেন।
মামলায় আশরাফুল অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা ও নির্দেশে পুলিশ সদস্য ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করে। এ মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ৩ নম্বর আসামি।
শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বাকি তিনটি মামলা তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে ডিবি।








