সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘চালকের অদক্ষতা ও ত্রুটিযুক্ত যানবাহনের কারণে ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনা ঘটেছে। বাসডুবির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদেন উঠে এসেছে, গাড়িটি ঘাটে ঠিকই দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়িটি চলার কোনও কারণ ছিল না। কারণ ফেরি প্রস্তুত না। ফেরি ল্যান্ড করার আগেই গাড়ি চলতে শুরু করলো। গাড়ি যখন কোনও কারণ ছাড়াই চলতে শুরু করলো, তখন চালক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’
চালকের অদক্ষতা ও ত্রুটিযুক্ত যানবাহনের কারণেই বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও মন্তব্য করেন সেতুমন্ত্রী। এ ছাড়া সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে জনগণের অসেচতনতা এবং একই সড়কে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন চলাচলও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।
রবিবার (১৭ মে) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ আয়োজিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবিসহ সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চেক বিতরণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতসহ জেলার অন্যান্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত মোট ৬২ জনের মধ্যে ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পন্টুনের বেষ্টনী তিন থেকে চার ফুট উঁচু করার দাবির বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘যখন পন্টুনগুলো তৈরি করা হয়, তখন গাড়ি রক্ষায় প্রতিরক্ষাবেষ্টনী তৈরি করা হয় না। কারণ গাড়িগুলো সরাসরি পন্টুন থেকে ফেরিতে উঠবে।’ এ ছাড়া ফেরিঘাটের কিছু অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে জনগণের অসচেতনতা এবং একই সড়কে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের যান চলাচলের পাশাপাশি আন্তজেলার এসি, নন-এসি বাস চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।’
সড়ক দুর্ঘটনারোধে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় সরকার ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রকল্পের আওতায় ৬০ হাজার গাড়িচালককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। চালকদের প্রশিক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, রক্তচাপ পরীক্ষা, মাদকাসক্ত কিনা, তা পরীক্ষা করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। এতে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটা কমে আসবে। আমাদের আরও বেশি সজাগ হতে হবে, সচেতন হতে হবে। সরকার দুর্ঘটনারোধে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।’
রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘এই আর্থিক সহায়তা দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের শোক দূর করতে পারবে না। তবে তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা একটি প্রতীক হয়ে থাকবে। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন মানুষ নিরাপদ থাকে। তাই সড়ক ব্যবস্থপনা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। সবার প্রতি আহ্বান জানাবো, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করুন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘দুর্ঘটনা কমানোর জন্য দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর বিকল্প নেই। ১৯৯৪ সাল থেকে পদ্মা ব্যারাজ ও পদ্মা সেতুর জন্য আন্দোলন করে আসছি। ইতিমধ্যে পদ্মা ব্যারাজের ব্যাপারে একনেকে প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এই অঞ্চলের অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া মানুষের কথা ভেবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করি।’
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম ও রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিআরটিএর কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









