জুলাইয়ের সেই স্মৃতি এখনও তাজা, আছে ট্রমাও

আরিফুল ইসলাম সাব্বির, সাভার
০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪১আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫১

কোটা সংস্কারের দাবিতে জুলাইয়ের শুরু থেকেই উত্তাল ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৪ সালের ২ জুলাই ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সঞ্চার ঘটে। এরপর ধারাবাহিক ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে সারা দেশের পাশাপাশি উত্তাল হয়ে ওঠে জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস ও সাভার। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের হলে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ ওঠে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।

সেই রাতেই উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ ওঠে, সেখানে আবারও হামলা ও পুলিশি অভিযানে শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকসহ আহত হন অনেকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর লুৎফুর এলাহীর ডান চোখের দৃষ্টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ওই রাতেই ক্যাম্পাস ছাড়ে ছাত্রলীগ। পুলিশি অভিযান দমন পীড়ন কিংবা কারফিউ কোনোটিই আন্দোলন দমাতে পারিনি।

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর লুৎফুর এলাহী বলেন, দুটি গেট ভেঙে তাদের ওপর উপর্যুপরি যে আক্রমণ অব্যাহত ছিল, এই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকজন সহকর্মী বর্তমান উপাচার্যসহ আমরা কয়েকজন সেখানে ছুটে গিয়েছিলাম। একটা মানুষ মারা গেলে যেমন ক্ষতিপূরণ হয় না, তেমনি চোখ হারিয়ে গেলে এ ক্ষতিপূরণ হয় না। এটা রিপ্লেসমেন্টও সম্ভাব না।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী অনন্যা ফারিয়া বলেন, সেই অনুভূতি, সেই ট্রমা এখনও আমাদেরকে আসলে তাড়া করে। খুব হতাশ হই। আমাদের ওপর যারা আক্রমণ করেছিল তারা যদি এই বিচারিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে যেতে পারে। তারা যদি পার পেয়ে যায় তাহলে এর চেয়ে বড় কোনও দুঃখের জায়গা বোধহয় থাকবে না।

জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, জুলাইতে যেমন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে লড়াই করেছি, সেই বৈষম্য দূর করার জন্য যদি আমরা এভাবে লড়াই করতাম? তাহলে আশা করি যে আমরা যে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে যে রাজপথে ছিলাম, সেই উদ্দেশ্যটা অনেকাংশই বাস্তবায়িত হতো।

প্রথম আলোর জাবি প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলে ছিল। যেমন আমি নিজেও একটু হলের ভেতরে ছিলাম। প্রায় সাত থেকে আট দিন যখন ক্যাম্পাসে শূন্য ছিল। জাহাঙ্গীরনগরে আন্দোলনে সাংবাদিকদের যে একটা ভূমিকা ছিল সেটা আসলে অনস্বীকার্য।

জাবির জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, আমার একেবারে ছাত্র অবস্থা থেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। ৯০ এর দশকে রাজপথে থেকেছি। তো এই যে ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটা আকাঙ্ক্ষা, এটা যেমন নিজের ছিল তেমনি যারা ন্যায় প্রতিষ্ঠার সাথে থাকেন, তাদের প্রতি এক ধরনের সমর্থন সবসময় থাকে। তারা যেই দলেরই হোন না কেন।

/এফআর/
সম্পর্কিত
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ
জুলাই কোনও নির্দিষ্ট শ্রেণির নয়, গণমানুষের: গণঅভ্যুত্থান দিবসে ড. ইউনূস 
৫ আগস্ট কী দিয়েছে, কী দিতে পারেনি 
সর্বশেষ খবর
এনসিপি নেতা সালাউদ্দিন তানভীর গ্রেফতার, নেওয়া হচ্ছে বগুড়ায়
এনসিপি নেতা সালাউদ্দিন তানভীর গ্রেফতার, নেওয়া হচ্ছে বগুড়ায়
জাকারবার্গকে কেন আলটিমেটাম দিলো ভারত?
জাকারবার্গকে কেন আলটিমেটাম দিলো ভারত?
গুমবিরোধী আইন: তদন্তের দায়িত্ব কি পুলিশেরই হওয়া উচিত? 
গুমবিরোধী আইন: তদন্তের দায়িত্ব কি পুলিশেরই হওয়া উচিত? 
রাজধানীর যেসব সড়‌ক আজ এড়িয়ে চলবেন 
রাজধানীর যেসব সড়‌ক আজ এড়িয়ে চলবেন 
সর্বাধিক পঠিত
পাকিস্তানে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানার সব পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
পাকিস্তানে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানার সব পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
মা-কে বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়ায় কর্মীকে বরখাস্ত করলেন মালিক
মা-কে বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়ায় কর্মীকে বরখাস্ত করলেন মালিক
অক্সফোর্ডের ভুয়া ডিগ্রি ও জালিয়াতি: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক এমপি প্রার্থীর কারাদণ্ড
অক্সফোর্ডের ভুয়া ডিগ্রি ও জালিয়াতি: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক এমপি প্রার্থীর কারাদণ্ড
‘১০০ শতাংশ’ দাবিতে ডাবরের মধু-ঘি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা
‘১০০ শতাংশ’ দাবিতে ডাবরের মধু-ঘি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা
মোকতাদিরকে জামিন দিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অচল করে দেবো: হেফাজতের মহাসচিব
মোকতাদিরকে জামিন দিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অচল করে দেবো: হেফাজতের মহাসচিব