ঢাকার ধামরাইয়ে বংশী নদীতে নোঙর করা একটি বালু তোলার ড্রেজারে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া মালামাল এবং মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি দেশীয় পাইপগানসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় ধামরাই থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ইশান।
সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মকর্তা জানান, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় বংশী নদীর তীরে নোঙর করা একটি ড্রেজারে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে ১২-১৩ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাতরা রামদা, পিস্তল, বন্দুক ও কাটারসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ড্রেজারের ওপর উঠে পড়ে এবং সেখানে কর্মরত চারজন স্টাফকে এলোপাতাড়ি মারধর ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে ড্রেজার থেকে দুটি ভারী ব্যাটারি, একটি ওয়েল্ডিং মেশিন, দুটি গ্রাইন্ডিং মেশিন, বৈদ্যুতিক তার, চারটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকাসহ সর্বমোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে ট্রলারযোগে নদীর উত্তর দিকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ড্রেজার মালিক মোস্তফা সাইদুজ্জামান গত ১৩ আগস্ট বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি ডাকাতি মামলা করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকা জেলা, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতাররা হলেন- মাহাতাব হোসেন (৫২), কামাল হোসেন (৫০), জয়নাল আবেদীন (২৮), আবির হাসান ওরফে আপ্পা (২৪), আরকান ওরফে আলিফ ইসলাম ছোটন (২৪) এবং মনা খান ওরফে মনির (৪৫)। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও ঢাকার আশপাশে ভাড়াটিয়া হিসেবে থেকে এই অপরাধ চক্র গড়ে তুলেছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।









