বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি এজাহার দায়েরের একদিন পরই নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার এবং লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে। গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে লালপুর ও বাগাতিপাড়ার ইউএনও কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার এই এজাহার দায়ের করা হয়। তবে এজাহার দুটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি পুলিশ। উল্টো মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নাটোরের জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।
পাশাপাশি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে এই আকস্মিক প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে বদলির কারণ সম্পর্কে সরকারি আদেশে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে এই বদলির সঙ্গে এজাহার দায়েরের যোগসূত্র আছে বলে মনে করছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদেশ জারি করা হয়। এক প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। অন্য প্রজ্ঞাপনে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্রদল এবং যুবদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ইউএনও কার্যালয়ের দরজায় লাথি, ফুলের টব ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের মারধর করে ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনার ধারণ করা ছবি-ভিডিও মুছে ফেলা হয়। সেইসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিতের পর ডিম নিক্ষেপ ও কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়।
১২ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা। বেলা ২টার দিকে দুই ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় দুই উপজেলার ইউএনওরা অবরুদ্ধ অবস্থায় কার্যালয়ে ছিলেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত বাগাতিপাড়ায় নেতাকর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এবং লালপুরে উপজেলা পরিষদ ভবনের হলরুমে বিক্ষোভ করেন।
এজাহার দায়েরের পরদিন বদলি-প্রত্যাহার
ঘটনার পর ১৭ আগস্ট লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় পৃথক দুটি মামলার এহাজার দায়ের করেন। দুটি এজাহারে মোট ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
লালপুর থানার মামলায় বিএনপির ১৮ জন নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুন অর রশিদ পাপ্পুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। এছাড়া ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে।
বাগাতিপাড়া থানায় করা মামলার এজাহারে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন মুন্নাসহ সাত জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
এর মধ্যে মঙ্গলবার লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহকে প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে ইউএনও হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এএনএম বজলুর রশীদের ও নাটোরের জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার আদেশে কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। স্ব স্ব পদ থেকে তাদের প্রত্যহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
এজাহার দায়েরের পরদিনই জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে বদলি করায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা প্রশাসনের কেউ কেউ বলছেন, এই বদলির সঙ্গে মামলার এজাহারের সম্পর্ক আছে। যদিও সে বিষয়ে সরকারি আদেশে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এজাহার দায়েরের পরদিন বদলির বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার ড. এএনএম বজলুর রশীদ, জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলা নথিভুক্ত করেনি পুলিশ
জেলা প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে ১২ আগস্ট দুপুরে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। বাগাতিপাড়া উপজেলাতেও নির্বাহী কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। দুই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এজাহার দায়ের করা হয় ১৭ আগস্ট দুপুরে। অথচ ঘটনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এজাহার দুটি বুধবার বিকাল পর্যন্ত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি পুলিশ। এর মধ্যে উল্টো জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে।
সেদিন কী ঘটেছিল
লালপুর ও বাগাতিপাড়া প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের নির্বাচনি এলাকা। এই দুই উপজেলায় দুই ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী পাঁচ জন এবং জেলা প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য সুপারভাইজার ও কর্মী নিয়োগ পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। শুমারির জন্য আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তোলেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। বাগাতিপাড়া উপজেলার মালঞ্চি রেলগেট এলাকা থেকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে মিছিলটি ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে গিয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কক্ষে ভাঙচুর করেন। ইউএনও ও কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় সাংবাদিকদেরও মারধর করে মোবাইল, ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে সব তথ্য মুছে দেন। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
কী আছে মামলার এহাজারে
ইউএনওসহ সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং সরকারি সম্পদ ভাঙচুর করার ঘটনায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এ অবস্থায় অভিযোগকারীরাও চরম আতঙ্কে রয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এজাহারে উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল বাতিলের দাবিতে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা ১২ আগস্ট দুপুরে লালপুর উপজেলা পরিষদের সামনে জড়ো হয়ে নানা স্লোগান দেন। এ সময় সরকারি অন্যান্য কর্মকর্তাকে নিয়ে নিজের দফতরে অবস্থান করছিলেন ইউএনও। একপর্যায়ে ৪০ থেকে ৫০ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিয়ে উপস্থিত কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করেন। নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের জন্য বেআইনিভবে চাপ দিতে থাকেন। মারধর করা হয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে। মাটিতে ফেলে ওই কর্মকর্তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকেও। ভাঙচুর করা হয় চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র। চাপ দেওয়া হয় ইউএনওর কক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরা বন্ধ করতে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সিসি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষুব্ধদের কয়েকজন ইউএনওকে ঘিরে ধরার পর অশালীন ভাষায় গালমন্দ করতে করতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ইউএনওর গায়ে ডিম ছুড়ে মারেন ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা। পরে কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে আবারও বিক্ষোভ করেন অভিযুক্তরা।
বাগাতিপাড়া উপজেলাতেও একই ঘটনা
বাগাতিপাড়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকর আলীর দায়ের করা এজাহারে বলা হয়েছে, ১২ আগস্ট সকালে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষার ফল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। ইউএনওকে লাঞ্ছিত করার জন্য কক্ষের দরজা খুলতে চাপ দেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ের বারান্দায় থাকা কয়েকটি ফুলের টব ও একটি স্টিলের ফটক ভাঙচুর করা হয়। প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কপালে আঘাত করা হয়। ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করছিলেন উপজেলা ভূমি অফিসের একজন কর্মচারী। বিক্ষুব্ধরা ওই কর্মচারীকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন । পরে টেবিলে আঘাত করে ইউএনওকে আপত্তিকর ভাষায় কথা গালিগালাজ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের প্রকাশিত ফলাফল নিয়ে বিক্ষোভাকারীদের লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিতে বলেছিল উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু বিক্ষুব্ধরা অভিযোগ না দিয়ে দলীয় দাপট দেখিয়ে পুরো ফল বাতিলের জন্য দুই ইউএনওকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এজাহার দুটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।
কেন মামলা নেয়নি পুলিশ
এজাহার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লালপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়ের করা এজাহার পেয়েছি। তদন্ত করে মামলা নেওয়া হবে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ইউএনও কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মামলা ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় হামলার ঘটনায় পুলিশের কাছে প্রশাসনের এজাহার দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এজন্য বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারছি না।’
যা বলছেন সরকারদলীয় নেতারা
নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার দাবি জানাই। দলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট বা সরকারি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বিএনপি।’
এসব বিষয়ে জানতে স্থানীয় এমপি ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুলের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সমালোচনা করছেন অনেকে
এজাহার দায়ের ও একদিনে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তা বদলির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাটোর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ শিশির। সেখানে তিনি লেখেন, ‘লালপুর-বাগাতিপাড়ায় ইউএনও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পরই নাটোর জেলার ডিসি ও ইউএনও প্রত্যাহার। যে দেশে পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও ক্ষমতার কাছে মাথা নত না করার জন্য প্রত্যাহারের শিকার হন, সে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’
এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণে ইউএনও ও ডিসিকে বদলি করা হয়েছে। অথচ কর্মকর্তাদের দায়ের করা অভিযোগ মামলায় রূপ নেয়নি। এমনটি হয়ে থাকলে তা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারের অঙ্গীকার ও প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিকও। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দুর্নীতি ও অনিয়মকে উৎসাহিত করবে।’

নাটোরের ডিসি প্রত্যাহার, এক উপজেলার ইউএনও বদলি
দুই উপজেলার ইউএনও অবরুদ্ধ, কার্যালয়ে ছাত্রদল-যুবদলের ভাঙচুর, সাংবাদিকদের মারধর
ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর ও সাংবাদিক লাঞ্ছনা: ছাত্রদলের ৩ কর্মী বহিষ্কার
প্রতিমন্ত্রীর এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে নিয়োগের ফলাফল স্থগিত






