গাজীপুরে শ্যালকের বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রী চলে যাওয়ায় শ্যালক সৌরভ আহমেদকে (২০) হত্যা করেছে রবিউল ইসলাম (২২)। পরে মরদেহ মাদারীপুরের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। নিখোঁজের এক মাস পর গাজীপুর থেকে সৌরভের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিউল ও শাহিন নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর দত্ত এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সৌরভ জামালপুর সদর থানার তিতপল্যা খাকুরীপাড়া গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে। সে গাজীপুর মহানগরীর পশ্চিম জয়দেবপুর গণি মুন্সীরটেক এলাকায় আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো।
রবিউল সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মুরাগাছা গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে। শাহিন মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার জোড়গাঁও গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর দত্ত জানান, গত ৩ আগস্ট সৌরভ গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার মা কাকলী বেগম থানায় জিডি করেন। জিডির সূত্রে পুলিশ তদন্তে নামে এবং সৌরভের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে কাকলী বেগম থানায় হত্যার উদ্দেশে অপহরণ মামলা করেন।
নিখোঁজ ডায়েরির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত প্রাথমিক তদন্তে বাদীর দেওয়া পারিবারিক কলহের তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে ভুক্তভোগীর মা সদর থানায় হত্যার উদ্দেশে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পারিবারিক কলহের তথ্য বিশ্লেষণ করে মাদারীপুরের টেকেরহাট এবং সাতক্ষীরা সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিউলকে গ্রেফতার করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল তার আরও তিন সহযোগীর সহায়তায় সৌরভকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে শাহিনকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
রবিউল ও শাহিনের দেওয়া তথ্য এবং দেখানো স্থান অনুযায়ী, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দী এলাকার একটি ডোবা থেকে সৌরভের মরদেহের কঙ্কাল ও বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীর পরিধেয় বস্ত্রও উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এসআই দীপঙ্কর দত্ত আরও জানান, চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোন নুপুরকে বিয়ে করে রবিউল। বিয়ের পর রবিউল ও নুপুর তাদের দুই বছরের ছেলেকে নিয়ে মাদারীপুরের রাজৈর থানার টেকেরহাটের তাঁতিকান্দি গ্রামের হবি মাতাবরের চাতালে বসবাস করতো। এরইমধ্যে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের সঙ্গে নুপুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যায় নুপুর। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সহযোগী শাহিনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করে রবিউল। ৩ আগস্ট কৌশলে সৌরভকে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যায়।
সেখানে শাহিনের সঙ্গে আট হাজার টাকার বিনিময়ে সৌরভকে হত্যা ও লাশ গুমের চুক্তি করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রবিউল, শাহিন ও তাদের দুই সহযোগী (পলাতক) কৌশলে সৌরভকে ডোবার কাছে নিয়ে যায়। ওইদিন রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে সৌরভকে একাধিক টুকরো করে। পরে রাজৈর থানার হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দী এলাকার খালের ডোবার কচুরিপানার নিচে লাশটি রেখে যে যার মতো চলে যায়।
এরইমধ্যে গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নিখোঁজ ডায়েরির তদন্তে কিছু রহস্যজনক তথ্য সামনে এলে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ শুরু করে। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুই আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।’









