নিথর পড়ে ছিল স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশুসন্তানের মরদেহ। আর একই ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল স্বামী ইকরাম হোসেনের মরদেহ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক।
মৃতদের মধ্যে আকরাম হোসেন ছাড়াও অন্য দুজন হলেন, তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৪) ও তাদের মেয়ে আলিজা আক্তার। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ইকরাম। তবে কী কারণে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটলো, তার উত্তর এখনও মেলেনি। পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জান্নাকান্দি গ্রামের ইকরাম হোসেন কিছুদিন আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। শনিবার দুপুরে তার বাড়ির ঘরের ভেতর স্ত্রী ও দেড় বছরের সন্তানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশেই ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায় ইকরামের মরদেহ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদেশ থেকে ফেরার পর ইকরাম পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন। তার সঙ্গে স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের কোনো বিরোধ কিংবা পারিবারিক কলহ চলছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হঠাৎ একই পরিবারের তিনজনের এমন মৃত্যুতে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জান্নাকান্দি গ্রামের ওই বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যুতে হতবাক এলাকাবাসী।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি কীভাবে এবং কেন ঘটেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।








