বোরো ধানে ‘ব্লাস্ট’, বিপাকে কালীগঞ্জের কৃষকরা

নয়ন খন্দকার, ঝিনাইদহ
১৮ এপ্রিল ২০১৮, ১০:০৩আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৪৩

বোরো ধানে ‘ব্লাস্ট’, বিপাকে কালীগঞ্জের কৃষকরা চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ব্রি-২৮ ও নতুন জাতের ব্রি-৬৩ ধানে ছত্রাকজনিত ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত ক্ষেতের ধানের শীষ শুকিয়ে চিটে হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এই দুই জাতের ধান চাষ করে এখন তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ১৮ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮ এবং ১ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে নতুন ব্রি-৬৩ জাতের ধানের চাষ হয়েছে।

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক মুক্তার হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি অন্যের জমি লিজ নিয়ে দুই বিঘা জমিতে ব্রি-৬৩ জাতের ধানের চাষ করেছেন। ধানের শীষও বের হয়েছে। কিন্তু নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তার ক্ষেতের বেশিরভাগ ধানের শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে চারবার স্প্রে করেও তিনি কোনও ফল পাননি। এখন তিনি কী করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।

তার পাশ্ববর্তী বেলে পাড়া গ্রামের নিখিল কুমার জানান, তার ১৫ কাঠা জমিতে ব্রি-৬৩ জাতের ধান শীষ বের হওয়ার পর নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে প্রায় ৭৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে।

মল্লিকপুর গ্রামের প্রান্তিক চাষি মুক্তার হোসেন ১৬ কাঠা জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধানের শীষ বের হওয়ার পর তিনি ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পান ধানের শীষগুলো পচে শুকিয়ে চিটে হয়ে গেছে। একইভাবে কালীগঞ্জ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের কৃষক জাহিদ হোসেন ৬ বিঘা জমিতে নতুন জাতের ব্রি-৬৩ ধান চাষ করেছিলেন। তার ক্ষেতের প্রায় অর্ধেক ধানের শীষ নেক ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়ে শুকিয়ে গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তারা সময়মতো ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিলে তাদের এমন ক্ষতি হতো না।

অন্যদিকে কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, এবার আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় আগে থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, মসজিদ ও লোকসমাগম হয় এমন স্থানে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। ছত্রাক প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। বোরো ধানে ‘ব্লাস্ট’, বিপাকে কালীগঞ্জের কৃষকরা
আরও জানা গেছে, কিছুদিন আগে হওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে এই রোগ ছড়িয়েছে। এই রোগে আক্রান্তের লক্ষণ হলো প্রথমে শীষের গোড়ার সংযুক্ত স্থানে পানি জমে। এরপর সেখানে জীবাণু আক্রমণ করে কালচে বাদামি দাগ তৈরি করে। পরবর্তীতে আক্রান্ত শীষের গোড়া পচে যায়। খাবার শীষে পৌঁছাতে পারে না। ফলে শীষ শুকিয়ে দানা চিটা হয়ে যায়। শীষের গোড়া ছাড়াও যেকোনও স্থানে এ রোগ আক্রমণ করতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ সহজে শনাক্ত করা যায় না। আক্রান্ত হয়ে পড়লে ওষুধ প্রয়োগ করলেও কার্যকরভাবে রোগ দমন করা সম্ভব হয় না। সেজন্য তারা সময়মতো ছত্রাকনাশক ওষুধ পানির সঙ্গে মিশিয়ে বিকালে ৫/৭ দিনের ব্যবধানে দুই বার স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। যেসব কৃষক তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আগাম ব্যবস্থা নিয়েছেন তাদের কোনও সমস্যা হয়নি বলে কৃষি কর্মকর্তা দাবি করেন।

উপজেলার বলরামপুর গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর ছয় বিঘা জমিতে ব্রি-৬৩ জাতের ধান চাষ করেছেন। রোপণের কিছুদিন পর তিনি দেখতে পান তার ধান গাছ মাঠের সবার থেকে ভালো হয়েছে। কিন্তু ধানের শীষ বের হওয়ার কয়েকদিন পর মাঠে গিয়ে তিনি দেখতে পান বেশ কিছু ধানের শীষ পচন ধরে শুকিয়ে গেছে। আবার কিছু কিছু জমিতে অর্ধেক ধানের শীষ শুকিয়ে গেছে। এরপর কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পর নতুন করে আর পচন ধরেনি।

উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক সুমন হোসেন বলেন, চলতি বছর আমি সাড়ে চার বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। এরমধ্যে তিন বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করেছি। গত এক সপ্তাহ আগে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি হওয়ার পর মাঠে গিয়ে দেখি ধানের শীষে পচন ধরেছে। এর কিছুদিন পর দেখি তিন বিঘা জমিতে অর্ধেকের বেশি ধানের শীষে পচন ধরেছে। তিনি ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পর পচন আর বাড়েনি বলে জানান। একই গ্রামের দুদু মিয়া, তারিফ হোসেন, মুকুল সাহা ও আজহার আলীর ব্রি-২৮ ও ৬৩ জাতের ধানের শীষ নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম চলতি বোরোর বাম্পার ফলনের আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আর কয়েকদিন পরেই কৃষকরা ধান কাটা শুরু করবেন। মূলত দিনে গরম আর রাতে শিত থাকায় ব্লাস্ট রোগ ছড়ায়। এছাড়া জমিতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহারের ফলে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। রোগ প্রতিরোধে আগে থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, মসজিদ ও লোকসমাগম হয় এমন স্থানে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা রোগ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন।’ এই উপজেলায় মাত্র দেড় হেক্টর জমির ধান এই রোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক