খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহানগরীতে অচেনা মুখের আনাগোনা বেড়েছে। এ অবস্থায় নগরজুড়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ অভিযানও চলছে। অভিযানে গত এক সপ্তাহে কয়েকটি ধারালো অস্ত্রসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান এবং অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে তাগিদ দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক নির্বাচনে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা অন্য কোনও আশঙ্কা নাকচ করেছেন। নির্বাচনে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলে তার দাবি। তবে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলে অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, কেসিসি নির্বাচনকে সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গত ৪ এপ্রিল ৫ নির্দেশনা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করতে বলা হয়। কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সই করা এ-সংক্রান্ত চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন বরাবর পাঠানো হয়।
ইসির ওই চিঠিতে বলা হয়, ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে সিটি এলাকার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের জন্য অগ্রিম বাজেট প্রণয়ন, অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুতে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
গণসংযোগ করার সময় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রতিনিয়ত মিথ্যা অভিযোগ করছেন। নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) রয়েছে।’ তিনি যেকোনও ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হওয়ার পরিবেশ বিরাজ করছে বলে দাবি করেন।
আর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু গণসংযোগ করার সময় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অতীতে ভোট ডাকাতিসহ নানা চিত্র দেশবাসী দেখেছেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য বিএনপি ৯ দফা দিয়েছিল, তার কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।’
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন বলেন, ‘২০ এপ্রিল থেকে কেসিসি নির্বাচনকেন্দ্রিক বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচন পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।’
তিনি আরও জানান, কেসিসি নির্বাচনের ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২২৬টি ভোটকেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) এবং বাকি ৬৩টি ভোটকেন্দ্রকে সাধারণ (ঝুঁকিহীন) বলে চিহ্নিত করেছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১০ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রে ৮ জন সশস্ত্র পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া থাকবে পুলিশের টহল দল ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দাকর্মী। সব মিলিয়ে ভোটের দিন ৫ হাজার পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তবে ভোটের আগেই ১৩ মে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১০ জন করে পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে শুরু করবেন। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ও নগরীর প্রবেশদ্বারেও ভোটের আগে থেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন- খুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ ২২৬ ভোটকেন্দ্র, ভোটের আগেই থাকবে ১০ জন করে পুলিশ







